শেষদিকে বদলি নেমে ফের নায়ক মেরিনো, সেমিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন
চারদিন আগে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শেষদিকে বদলি নেমে লক্ষ্যভেদ করে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। আবারও একইভাবে মাঠে ঢুকে ব্যবধান গড়ে দিলেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। তার অন্তিম সময়ের জয়সূচক গোলে বেলজিয়ামকে বিদায় করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কাটল লা রোহারা।
শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত নাটকীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ তাদেরকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৪১তম মিনিটে সমতা টানেন চার্লস ডি কেটেলারে। এরপর দুই দল বেশ কিছু সুযোগকে পূর্ণতা দিতে না পারায় খেলা এগোচ্ছিল টাইব্রেকারের দিকে। তবে ৮৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে মেরিনো জাল খুঁজে নিলে শেষ চারে নাম লেখায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের ১৬ বছর পর সেমিতে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর গত দুটি আসরে তাদের যাত্রা থেমেছিল শেষ ষোলোতে। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা।
তবে ফাইনালে উঠতে হলে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে স্পেনকে। আগামী মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠেয় হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ডালাসে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের, যারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে।
৬৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখা স্পেন গোলমুখে ১৭টি শট নিয়ে আটটি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, গোলপোস্টে বেলজিয়ামের নেওয়া পাঁচটি শটের কেবল দুটি লক্ষ্যে ছিল।
কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরেমি ডকু শুরুর একাদশে ফিরলেও ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। ওয়ার্মআপের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন অধিনায়ক ইউরি টিলেমানস। এর আগে আমাদু ওনানাকেও হারানোয় বল দখলে পটু স্পেনের বিপক্ষে তাদেরকে প্রায় দ্বিতীয় সারির মিডফিল্ড নিয়ে নামতে হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় দে লা ফুয়েন্তের দল। পেদ্রির জায়গায় সুযোগ পাওয়া রুইজ ও রদ্রি মাঝমাঠের দখল নেন। সঙ্গে তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল দূরপাল্লার শটে ভীতি ছড়াতে থাকেন। তবে বেলজিয়ামের ডকুও বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গত ম্যাচে জোড়া গোল করা ডি কেটেলারের জন্য সুযোগ তৈরিতে মনোযোগী ছিলেন।
ম্যাচে প্রথম লিড নেয় স্পেনই। ৩০তম মিনিটে পেদ্রো পোরো ও ইয়ামালের দারুণ বোঝাপড়ার পর পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমো শট নেন। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তা ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করেন রুইজ। এরপর স্পেন যেন বেলজিয়ামের অর্ধে অনুশীলন সেশনের মতো পাসিং ফুটবল খেলতে থাকে।
তবে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি থাকা বেলজিয়াম এবারও হাল ছাড়েনি। ৪১তম মিনিটে ডি ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে টিমোথি কাস্টানিয়া দারুণ এক ক্রস বাড়ান। ডি-বক্সে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ছিটকে ফেলে দারুণ হেডে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে ঢোকা প্রথম গোল। আর সব মিলিয়ে রেকর্ড টানা ৬৪৯ মিনিট পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল হজম করলেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
বিরতির পর দুই দলই আক্রমণে প্রাধান্য দেওয়ায় খেলা আরও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামালেও ৭১তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। উরুতে চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার জায়গায় এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের।
এই অভিষেকই শেষ পর্যন্ত লামেন্সের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ৮৮তম মিনিটে কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিরতি বলে জোরালো শটে গোল করেন সুযোগসন্ধানী মেরিনো। আগের ম্যাচেও পর্তুগালের বিপক্ষে ৮৫তম মিনিটে মাঠে নেমে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে জাল কাঁপিয়ে স্পেনকে জেতান তিনি।
শেষদিকে অ্যালেক্সিস সালেমেকারস ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে লুকাকুকে বল দিতে ব্যর্থ হন। ফলে বেলজিয়ামের সমতায় ফেরার শেষ আশাটিও নষ্ট হয়। শেষ বাঁশির পর কোর্তোয়া এসে হতাশ লামেন্সকে সান্ত্বনা দেন। তখন বেলজিয়ামের বুড়িয়ে যাওয়া সোনালি প্রজন্মের খেলোয়াড়দর স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইয়ে নজর ঘোরানোর আগে জয় উদযাপনে মশগুল ছিলেন স্পেনের ফুটবলাররা।