সিলেট বিভাগে বেড়েছে লোডশেডিং
সিলেট বিভাগে গত এক সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগে বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)।
আজ সোমবার বিকেল ৫টায় সিলেট বিভাগে পিডিবির সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২১০ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ১৮০ মেগাওয়াট।
পিডিবি সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ কর্তৃক বরাদ্দকৃত বিদ্যুৎ অনুযায়ী আমরা ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করছি।’
এদিকে গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মোট চাহিদার মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলছে লোডশেডিং।
আরইবি সিলেট জোনের (বিভাগের চার জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, রোববার সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৫৭৬ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৩৬১ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয়েছে ২১৫ মেগাওয়াট।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন আবির হাসান। তার প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন মেরামত করা হয়। আবির বলেন, ‘সরকার আমাদের সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ আমরা সারা দিনে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এভাবে ব্যবসা চালানো অসম্ভব। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ থাকে।’
সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের শিক্ষার্থী তানিম আহমেদ বলেন, ‘আগামীকাল থেকে আমাদের ইন-কোর্স পরীক্ষা শুরু, কিন্তু প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। আমার পড়াশোনা ঠিক মতো হচ্ছে না। এমনকি গভীর রাতেও লোডশেডিং হচ্ছে।’