আব্বা স্বপ্ন দেখতেন, আমি বড় ফুটবলার হবো: আজিজুল হাকিম
আজিজুল হাকিম দেশের একজন বরেণ্য ও দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। নব্বই দশকের টেলিভিশন নাটকে তার অনবদ্য উপস্থিতি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। আরণ্যক নাট্যদলের মাধ্যমে অভিনয় যাত্রা শুরু করা এই গুণী শিল্পী ছোট পর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনাতেও তাকে দেখা গেছে।
একসময় ফার্স্ট ডিভিশনে ফুটবল খেলেছেন আজিজুল হাকিম। কিন্তু তিনি পরে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শুনিয়েছেন তার ফেলে আসা ফুটবল জীবনের গল্প।
আজিজুল হাকিম বলেন, আমার ফুটবল খেলা শুরু স্কুলজীবন থেকে। স্কুলে ফুটবল খেলতাম, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। আমাদের স্কুলে কাউসার স্যার ছিলেন। তার উৎসাহ ও তত্ত্বাবধানেই ফুটবল খেলতাম। সেই স্মৃতি আজও ভুলিনি। তখন আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা হতো, সেখানে অনেক উৎসাহ নিয়ে অংশ নিতাম। এভাবেই ফুটবলের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্ম নেয়।
তিনি আরও বলেন, আমার আব্বা ফুটবল খেলার জন্য খুব উৎসাহ দিতেন। আব্বা স্বপ্ন দেখতেন, আমি বড় ফুটবলার হবো। সে সময় ফুটবল খেলার প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম তিনিই কিনে দিতেন। এতে আমি আরও উৎসাহ পেতাম। আব্বারও প্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসা আমি জেনেটিকভাবেই পেয়েছি।
আজিজুল হাকিম বলেন, স্কুল পাস করে ঢাকার তিতুমীর কলেজে ভর্তি হই। সেখানে এসেও ফুটবল ছাড়িনি। বলা যায়, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। তিতুমীর কলেজের ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। এ সময় ফুটবলের প্রতি আমার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম।
কলেজজীবনের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, তিতুমীর কলেজে আমার সহপাঠী ছিলেন নায়ক রুবেল। সাথী নামে একজন ছিলেন, গামাও ছিলেন। আবার স্কুলজীবনে মুন্না, আনোয়ার, চিও ও স্বপন আমাদের দলে ছিল। কলেজ জীবনে আমার আব্বা স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তার ছেলে জাতীয় দলে খেলবে।
‘একদিন তিনি আমাকে মফিজ চাচার কাছে নিয়ে যান। মফিজ চাচা তখন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজার ছিলেন। তার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর স্বপ্ন আরও বড় হতে থাকে। সে সময় আব্দুর রহিম ছিলেন কোচ। মফিজ চাচাই তার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। এভাবেই ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে আমার খেলা শুরু হয়।’
তিনি বলেন, তখন ঢাকা স্টেডিয়ামে দর্শক কানায় কানায় ভরা থাকত। গ্যালারিও ভাগ হয়ে যেত। একদিকে আবাহনীর দর্শক, অন্যদিকে মোহামেডানের দর্শক। আমি আবাহনীর দর্শক ছিলাম, তবে অন্য দলের খেলাও পছন্দ করতাম। সে সময় প্রচুর খেলা দেখেছি।
আজিজুল হাকিম বলেন, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে তখন অনেক দলের বিপক্ষে খেলেছি। ওয়ারী, রহমতগঞ্জ, বিজিএমসি, ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ অনেক দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ফার্স্ট ডিভিশনে ফুটবল খেলেছি। কত শত স্মৃতি যে মনে পড়ে! আমি ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলতাম। সে সময় ঢাকা স্টেডিয়ামেই বেশি খেলেছি।
তিনি বলেন, সেই সময় ফুটবলের আইকন ছিলেন মঞ্জু ভাই, নান্নু ভাই, সালাহউদ্দিন ভাইসহ আরও অনেকে। ঢাকার ফুটবলের তারকা ছিলেন তারা। ১৯৭৫, ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আমি ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে খেলেছি।
নিজের ছেলের কথা উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেন, এখন আমার ছেলেও ফুটবল খেলে। সেও স্বপ্ন দেখে একজন ভালো ফুটবলার হওয়ার। তাকে আমি সব সময় উৎসাহ দিই। হয়তো সে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাটা জেনেটিকভাবেই পেয়েছে, যেমন আমি পেয়েছিলাম আমার বাবার কাছ থেকে। এই বয়সে তাকে খেলতে যেতে দেখলে খুব ভালো লাগে।