‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না,’ উয়েফাকে ফিফার পাল্টা জবাব

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের তীব্র ক্ষোভ ও উয়েফার বর্জনের হুমকির পরও পিছু হটছে না ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আজ শুক্রবার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই তহবিল গঠনের বিষয়ে তারা আলোচনা প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে নেবে।

গত মঙ্গলবার ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর কাছে দেওয়া এক চিঠির মাধ্যমে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব উন্মোচন করেন। বিশ্ব ফুটবলের বড় ইভেন্টগুলো পরিচালনার জন্য গঠিত প্রায় ২০০০ কোটি ডলার বাজারমূল্যের এই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৪০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করাই ইনফান্তিনো ও ফিফার মূল লক্ষ্য।

এই শেয়ার বিক্রি ও বিনিয়োগকারী খোঁজার মূল দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। এছাড়া, নতুন এই বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি গঠনের প্রক্রিয়ায় ফিফাকে সহায়তা করছে বিখ্যাত মার্কিন ব্যাংক ‘জেপি মরগান’। তবে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, ফুটবলে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদেরকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। প্রস্তাবটির বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মোট ৯৬টি দেশ অবস্থান নিয়েছে, যার মধ্যে উয়েফার ৫৫টি ও কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, ফিফা খেলাটির ‘আত্মা’ বিক্রির জন্য নিলামে তুলেছে— এমন অভিযোগ তুলে গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও এর ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার সব টুর্নামেন্ট বর্জনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

এর জবাবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, ‘সংবাদমাধ্যমে ভুল প্রতিবেদনের কারণে আমাদের পরিকল্পিত আলোচনা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। প্রতিটি সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা এই আলোচনা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব।’

খেলাটির স্বত্ব বা মালিকানা বিক্রির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তারা আরও বলেছে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। ফিফা কখনোই এমন কোনো বিষয়কে প্রশ্রয় দেবে না। যে কারও তাদের বিরোধিতা প্রকাশ করার এবং এই বিষয়ে আরও বিশদ ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে কোনো একক সংস্থা বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারে না।’

একক সংস্থা বলতে উয়েফাকেই বুঝিয়েছে ফিফা। পাশাপাশি বিবৃতিতে তারা যোগ করেছে, ‘প্রতিটি সদস্য দেশেরই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে মত দেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। এগুলোই ফিফার গণতান্ত্রিক নীতি।’

ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন ফিফার এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিলে আগামী চার বছরের চক্রে ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটি পাবে ৪ কোটি ডলার। তবে এই সুবিধা পেতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্যদেরকে সম্মতি জানানোর জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিতেই ২ কোটি ডলার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বাকি অর্থ ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।