পাকিস্তানে তুষারধস, নেপালের বিখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ নিখোঁজ ১০

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে তুষারধসের পর নেপালের খ্যাতনামা পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তারা কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিক অভিযানে ছিলেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

বৃহস্পতিবার রাতে আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান (এসিপি) জানিয়েছে, ৮ হাজার ৪৭ মিটার উচ্চতার ব্রড পিকে নির্মল পুরজার নেতৃত্বাধীন পর্বতারোহীদের একটি দল তুষারধসের কবলে পড়ে। এরপর থেকে দলটির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এসিপির তথ্য অনুযায়ী, অভিযাত্রী দলে পাঁচজন নেপালি, একজন পাকিস্তানি, একজন ওমানি, একজন মার্কিন, একজন চীনা এবং অন্য একটি দেশের একজন পর্বতারোহী রয়েছেন।

ক্লাবটি বলেছে, তুষারধসের পর পুরো দলটির সঙ্গেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

৪৩ বছর বয়সী পুরজা পূর্ণকালীন পর্বতারোহী ও ট্যুর গাইড হওয়ার আগে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেড অব গুর্খাস এবং পরে রয়্যাল মেরিনসের স্পেশাল বোট সার্ভিসে দায়িত্ব পালন করেন। পর্বতারোহণে তিনি একাধিক রেকর্ড গড়েছেন।

২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে মাত্র ছয় মাস ছয় দিনে বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন পুরজা, যা সে সময় একটি রেকর্ড ছিল।

২০২১ সালে আরও নয়জন নেপালি পর্বতারোহীর সঙ্গে তিনি প্রথমবারের মতো শীতকালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে২ জয় করেন।

ব্রড পিকের চূড়ার শৈলশিরা। ছবি: সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পুরজা লিখেছিলেন, অক্সিজেন ছাড়াই ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ দ্বিতীয়বারের মতো জয় করা প্রথম ব্যক্তি হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন তিনি।

ব্রড পিক অভিযানের আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘ব্রড পিক, ওপরে ওঠা এবং নিরাপদে ফিরে আসা ছাড়া আমি আর কিছুই চাই না।’

আরেক পোস্টে পুরজা লেখেন, কোনো পর্বতকেই তিনি হালকাভাবে নেন না। বেসক্যাম্প ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত ব্রড পিক বিশ্বের দ্বাদশ সর্বোচ্চ পর্বত। ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার শৃঙ্গগুলোর মধ্যে এটি আরোহণের জন্য অন্যতম কঠিন ও কারিগরিভাবে চ্যালেঞ্জিং বলে বিবেচিত। ১৯৫৭ সালে অস্ট্রিয়ার একটি দল প্রথমবারের মতো শৃঙ্গটি জয় করে।

আলপাইন ক্লাব জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মী ও বিশেষায়িত সরঞ্জাম নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

প্রতিকূল উচ্চ পার্বত্য পরিবেশে স্থলভাগে চলমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে হেলিকপ্টার দুটি কাজ করছে বলেও জানিয়েছে ক্লাবটি।