কিংবদন্তির কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
“মাগো, ওরা বলে,/ সবার কথা কেড়ে নেবে।/ তোমার কোলে শুয়ে/ গল্প শুনতে দেবে না।/ বলো, মা, তাই কি হয়?/ তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।/ তোমার জন্যে কথার ঝুড়ি নিয়ে/ তবেই না বাড়ী ফিরবো।/ লক্ষ্মী মা, রাগ ক’রো না,/ মাত্রতো আর কটা দিন।” —ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া কোনো এক সন্তানের পকেটে থাকা ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা এই চিঠির রচয়িতা কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। কবিতার নাম ‘কোনো এক মা’কে’।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদের স্বদেশ-সন্দর্শন
মমতাজউদদীন আহমদের পরিচয় বহুমাত্রিক। ভাষা-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচার সরকারবিরোধী সংগ্রামে সতত ভূমিকা রাখা মমতাজউদদীন আহমদ পেশায় ছিলেন অধ্যাপক, নাট্যকার ও অভিনেতা। বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকায় চুয়ান্ন থেকে আটান্নতে অন্তত চারবার কারাবরণ করতে হয়েছিলো তাকে। ব্যক্তিমানুষ হিসেবে ছিলেন প্রচণ্ড আবেগী ও সংবেদনশীল। যে-কারণে তার সৃষ্টিকর্ম স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং শোষণহীন সুখি ও সমৃদ্ধ স্বদেশ-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুগ্রথিত। তার অভিনয় কুশলতা ও সংলাপ পরিবেশনের ধরনটিও ছিলো স্বতন্ত্র। চরম দুঃখবোধ আর অস্বস্তি থেকে তিনি যে মুক্তি পাননি, অনন্ত দুঃখের পর আগত শান্তি যে সামান্য ও ক্ষণিক, তার চোখে-মুখে-কণ্ঠে থাকতো তারই রেশ-শ্লেষ-ক্লেশ।
২২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
রাজা যায় রাজা আসের কবি আবুল হাসান
অন্তহীন স্বপ্নচারিতার কবি আবুল হাসান। মাত্র ঊনত্রিশ বছরের জীবনবৃত্তে যিনি বুনন করেছেন অমরত্বের পরিপুষ্ট শিল্পবীজ। যার স্বাতন্ত্র্য শিল্পী-সত্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ খুব দ্রুতই অনুভব করা যায় তার মাত্র দুটো স্তবকের মাধ্যমে : ‘শিল্প তো স্বাতীর বুকে মানবিক হৃৎপিণ্ড, তাই/ আমি তার হৃৎপিণ্ডে বয়ে যাই চিরকাল রক্তে আমি/ শান্তি আর শিল্পের মানুষ।’ [রাজা যায় রাজা আসে, ১৯৭২] কিংবা ‘ঝিনুক নীরবে সহো/ ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও/ ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!’ [পৃথক পালঙ্ক, ১৯৭৫]। যেখানে শান্তি আর শিল্পের মানুষ আবুল হাসান হয়ে ওঠেন মানবিক হৃৎপিণ্ডের কবি।
২৬ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
চিত্রকল্পের কবি জীবনানন্দ দাশ
কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার ধূসর পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসু লিখছেন, 'আমাদের কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ সবচেয়ে কম ‘আধ্যাত্মিক’, সবচেয়ে বেশি ‘শারীরিক’; তার রচনা সবচেয়ে কম বুদ্ধিগত, সবচেয়ে বেশি ইন্দ্রিয়নির্ভর।' এরও প্রায় এক বছর পূর্বে ১৯৩৫ সালের ৩ অক্টোবর বুদ্ধদেব বসুকে লেখা একটি পত্রে জীবনানন্দের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটি সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন, জীবনানন্দ দাশের চিত্ররূপময় কবিতাটি আমাকে আনন্দ দিয়েছে। তিনি জীবনানন্দের কবিতায় ‘তাকিয়ে দেখার আনন্দ’ অনুভব করেছেন। প্রথমত রবীন্দ্রনাথ এবং দ্বিতীয়ত বুদ্ধদেবের এই মন্তব্য ইন্দ্রিয়বেদ্য চিত্রকল্পের কবি জীবনানন্দ দাশকে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
সময়ের দুঃসাহসী কথাশিল্পী শহীদুল জহির
বাংলা সাহিত্যে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত কথাশিল্পী শহীদুল জহির। পরিচিত এ অর্থে যে তিনি সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে লাতিন আমেরিকার জাদুবাস্তবরীতির একনিষ্ঠ সাধনা করে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার রচনায় প্রথম এ রীতির প্রয়োগ ঘটেছে, না কি তার পূর্বেও কেউ কেউ এ রীতিতে লেখার চেষ্টা করেছেন, লিখেছেন, তা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও একবাক্যে শহীদুল জহির ও জাদুবাস্তবতা সমার্থক।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
কথাশিল্পী রশীদ করীমের স্বাতন্ত্র্য ও সাহিত্যাদর্শ
রশীদ করীমের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ১৬ বছর আগে। ২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু, দেখা হওয়ার আগের দিন যাত্রাপথের অনাবিল অনুভূতি উপভোগ করতে পারিনি। অনুভূতির বিপরীতে একটা উত্তেজনা ও অমিশ্র-আশঙ্কায় আচ্ছন্ন বা অরক্ষিত আমি সেদিন বারবার ঔপন্যাসিক রশীদ করীম ও তার উপন্যাসে ঘুরপাক খাচ্ছিলাম!
১৪ আগস্ট ২০২২, ০২:২৮ অপরাহ্ন