চবিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তদন্তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিনের দপ্তরে এ অভিযান চালানো হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও টিম লিডার সৈয়দ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সময়কালে একাধিক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, 'নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র আমরা পর্যালোচনা করছি। ফারসি বিভাগে একটি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, পরিকল্পনা কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।'
তবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মার্কশিট না পাওয়ায় এই মুহূর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আইনসঙ্গত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
দুদকের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
'প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হবে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে এ নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে', বলেন তিনি।
১০০ থেকে ১৫০ জনের নিয়োগে অনিময় হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা বলেন, 'সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। সবগুলো নতুন নিয়োগ নয়, কিছু নিয়োগ নিয়মিতকরণের আওতায় পড়েছে। মোট কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, তা নথি পর্যালোচনার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।'
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, 'পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।'
তিনি বলেন, 'আগের অনেকগুলো নিয়োগ অননুমোদিত ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শর্ত অনুযায়ী সেগুলো নিয়মিতকরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি নিয়োগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'নাটক, সংগীত ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে শিক্ষক সংকট ছিল। নিয়োগ না হলে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো।'
'শিক্ষার্থীদের চাপের মধ্যেও আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি', যোগ করেন তিনি।
ফারসি বিভাগের নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রো-ভিসি জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ২০২১ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক শিরীন আখতারের সময় প্রকাশিত হয়েছিল।
বলেন, 'সেসময় নিয়োগ বোর্ড গঠনের আগেই একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়।'
বর্তমান প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে জানান প্রো-ভিসি।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১১৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।