সাতক্ষীরার ৪ আসনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতী সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চার আসনের ২০ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চার জন করে নেতা। পাশাপাশি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজিপি) একজন করে প্রার্থীকেও এই মন্দভাগ্য বরণ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচনী আইনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রার্থী যদি তার আসনের মোট বৈধ ভোটের অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ না পান। তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
সেই হিসেব মতে সাতক্ষীরার চার আসনের ২০ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ১১।
সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা- ১ (তালা কলারোয়া) আসনে ভোট পড়েছে মোট তিন লাখ ৬৯ হাজার ৯৭।
সাড়ে শতাংশের হিসাব মতে, ওই আসনে জামানত রক্ষার জন্য ন্যুনতম ৪৬ হাজার ১৩৭ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল হবে।
সেখানে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন মাত্র দুই হাযার ৫৪৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মোঃ রেজাউল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন দুই হাযার ৭১ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়ারুল ইসলাম ডাব প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৭১৫।
তাদের সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে মোট ভোট পড়ে তিন লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩।
জামানত রক্ষার ন্যুনতম ৪৮ হাজার ৭২৮ ভোটের বিপরীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ আশরাফুজ্জামান চার হাজার ২৭৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি রবিউল ইসলাম এক হাজার ৯৭৬ ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী পেয়েছেন ৩১৭ ভোট।
একইভাবে ন্যুনতম ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ আলিপ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ওয়েজ কুরনী, বিএমজিপি প্রার্থী রুবেল হোসেন এবং সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুর রশিদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম মোস্তফা আল মামুন।
জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার চার আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, হাফেজ মুহা: রবিউল বাশার ও মোঃ ইজ্জত উল্লাহ।
জেলার চার আসনে ভোট পড়েছে মোট ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৬।

