আবার বিস্ফোরক স্যামসন, অভিষেকের দ্রুততম ফিফটিতে ফাইনালেও আড়াইশ ছাড়িয়ে ভারত
বাজে ছন্দ কাটিয়ে গা ঝাড়া দিলেন অভিষেক শর্মা, ফাইনালে এসে করলেন আসরের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। সঞ্জু স্যামসন যেন আগের দুই ম্যাচের ছন্দই টেনে আনলেন ফাইনালে। এই দুজনের সঙ্গে ইশান কিশানও করলেন আগ্রাসী ফিফটি। শিরোপা ধরে রাখার মঞ্চে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেল ভারত।
আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান করেছে ভারত। ৪৫ বলে সর্বোচ্চ ৮৯ করেছেন স্যামসন। অভিষেক করেন ২১ বলে ৫২, ২৫ বলে ৫৪ করেন ইশান। শেষ দিকে নেমে ৮ বলে ২৬ করে দলকে আড়াইশ পার করান শিভম দুবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এর আগে এত বড় পুঁজি গড়তে পারেনি কোন দল।
টস জিতে রান তাড়া সহজ হবে ভেবে ফিল্ডিং নেন মিচেল স্যান্টনার। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব অবশ্য বলেছিলেন তিনি আগে ব্যাট করাতেই খুশি। টস ভাগ্য পক্ষে না এলেও দুই ওপেনার খানিক পর বুঝিয়ে দেন তাদের খুনে মেজাজ।
এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ফিফটি ছাড়া অভিষেক ছিলেন ভীষণ বিবর্ণ। ফাইনাল মঞ্চে এসে তিনি যেন ফিরে পেলেন নিজেকে। শুরুতে স্যামসন রান বাড়ালেও দ্রুতই কেড়ে নিলেন আলো। দারুণ সব শটের পসরায় মাত্র ১৮ বলে তুলে নেন ফিফটি, যা এই বিশ্বকাপের দ্রুততম। ফিফটির পরই রাচিন রবীন্দ্রের অনেক বাইরের বল মারতে গিয়ে আউট হন কট বিহাইন্ড হয়ে।
তার সৌজন্যে পাওয়ার প্লেতেই ৯২ তুলে ফেলে ভারত। ৮ম ওভারে তিন অঙ্ক পেরিয়ে যায় ইশানের ব্যাটে। ছন্দে থাকা বাঁহাতি ব্যাটার ডাগআউট থেকেই যেন থিতু হয়ে নেমেছিলেন। প্রথম বল থেকেই পেটাতে থাকেন তিনি।
স্যামসন অভিষেকের তান্ডবের সময়টাই নিজেকে গুটিয়ে রাখছিলেন, সেজন্য ফিফটি পেতে তার লেগে যায় ৩২ বল। কিন্তু এরপর যেন ধারণ করেন রৌদ্রমূর্তি। বাকি ৩৯ রান তুলেন স্রেফ ১৪ বলে! রাচিনকে টানা তিন ছক্কায় টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কার (২৪টি) রেকর্ডও তার হয়ে যায়, তাও স্রেফ ৫ ম্যাচ খেলে।
স্যামসন এদিনও ক্রিকেটীয় শটেই মোহগ্রস্থ করেন গ্যালারি। চিরায়ন ঢঙে অথরিটি নিয়ে কাভার ড্রাইভের সঙ্গে পুল আর ইয়র্কার বলে দুরন্ত ডেথ টাচে থার্ড ম্যান দিয়ে সীমানা পার। স্যামসনের হাতে নাগালেই ছিলো সেঞ্চুরি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি তা বিসর্জন দিয়ে আসেন নিঃস্বার্থ তাড়নায়। নিশামের কোমরের সমান ফুলটস বল সীমানা পার করতে চেয়েছিলেন সোজা। বাউন্ডারি লাইনে অসামান্য ভারসাম্য রেখে সেই ক্যাচ লুফে নেন বদলি ফিল্ডার ম্যাকনকি।
স্যামসনের বিদায়ের পর ওই ওভারেই ইশান ও অধিনায়ক সূর্যকুমারকে হারায় ভারত। দুজনেই ফেরেন মারতে গিয়ে ক্যাচ উঠিয়ে। ১৫ ওভার শেষে দুইশো পার করে ফেলা ভারত তখনো রেকর্ড রানের খোঁজে। হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যর্থতার দিনে দলকে টানেন দুবে। তার ব্যাটেই আড়াইশ পার হয়ে ভারত।