টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

৪৯৯ রান, ৩৪ ছক্কার ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হার্দিক পান্ডিয়ার থ্রো ধরে সঞ্জু স্যামসন স্টাম্প ভেঙ্গে দিতে মাটিতে শুয়ে পড়লেন জ্যাকব বেথেল। গোটা ম্যাচের শেষ দৃশ্যপট হয়ে গেল যেন তা। সেঞ্চুরিয়ান  বেথেল যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ আশায় ছিলো ইংল্যান্ড। শেষ ওভারে তার বিদায়ে নিশ্চিত হয়ে গেলো পরিণতি। স্যামসনের বিস্ফোরক ইনিংসে আড়াইশো ছাড়ানো পুঁজি গড়েও নিরাপদ ছিলো না ভারত। শেষ ওভার পর্যন্ত লড়ে রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে ইংল্যান্ড। 

বৃহস্পতিবার মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হয়েছে রান বন্যা। ৭ রানে তাতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। আগে ব্যাট করে নকআউট ম্যাচে রেকর্ড ২৫৩ রানের পুঁজি গড়ে ভারত। ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে তাতে বড় ভূমিকা স্যামসনের। ৪৮ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২৪৬ পর্যন্ত নিতে পারেন বেথেল। 

দুই দল মিলে এদিন রান হয়েছে ৪৯৯, ছক্কা হয়েছে ৩৪টি। 

ওয়াংখেড়ের উইকেট ছিলো রানে ভরা, রাতের আলোয় ছিলো শিশির। তবু ভারত ২৫৩ রান করার পর ইংল্যান্ডের হয়ে বাজি ধরার লোক ছিলো কমে গেল যখন কিনা দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে গেলেন ফিল সল্ট। পঞ্চম ওভারে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের বিদায় হয়ে এলো তাদের জন্য বড় ধাক্কা। 

তবু চারে নামা বেথেল যেন অন্য ধাঁচের ইনিংস খেলার পণ নিয়েই নেমেছিলেন। ছন্দহীন জস বাটলারকে হারানোর পর টললেন না তিনি। একের পর এক বাউন্ডারিতে মাত করলেন। বাড়ালেন ভারতের চিন্তা। 

টম বেন্টনের সঙ্গে ১০ বলে ৩১ রানের পর উইল জ্যাকসকে নিয়ে বেথেল যোগ করেন ৩৯ বলে ৭৭ রান। স্পিনাররা বল গ্রিপ করতে পারছিলেন না। একের পর এক চার-ছয় হজম করছিলেন তারা। ব্রুকের মতো জ্যাকসের অসামান্য ক্যাচে ভূমিকা আকসার প্যাটেলের। প্রথমটি অনেকখানি পেছনে দৌঁড়ে। পরেরটিতে তার নাম না থাকলেও মূল ভূমিকা তারই। বাউন্ডারি লাইনে ছক্কা থেকে বাঁচিয়ে দুবের হাতে তুলে দেন বল। 

এতসবের মাঝে ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলেন বেথেল। স্লগ ওভারে স্নায়ু ধরে রেখে চাপ বাড়ায় ভারত। এতে নায়ক আবার সেই জাসপ্রিত বুমরাহর। ভারতের সেরা বোলার ১৬ ও ১৮তম ওভারে মোড় ঘুরিয়ে দেন। আড়াইশ রানের ম্যাচেও ৪ ওভারে ৩৩ দিয়েছেন তিনি। ১৮তম ওভার থেকে দেন কেবল ৬ রান। 

তার ওভারের ওই চাপ সামাল দিতে পারেনি ইংল্যান্ড। স্যাম কারানের বিদায়ের পর শেষ ওভারে ৩০ রানের হিসেব মেলাতে গিয়ে রান আউটে কাটা পড়েন বেথেল। ভারতের জয়ও নিশ্চিত হয়ে যায় তখন অনেকটা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে যাওয়া ভারতের ইনিংসে আবার চালক স্যামসন। ম্যাচ সেরাও হন তিনি। প্রথম ওভারে আর্চারকে লং অন দিয়ে চার মারার পর ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা উড়ান তিনি। ওই ওভারেই মিড অনে ক্যাচ দিয়ে হ্যারি ব্রুকের হাত থেকে বেঁচে যান। পরে পুলে বল পাঠান গ্যালারিতে। 

জেমি ওভারটনের ইয়র্কারকে রকেট গতিতে থার্ড ম্যান দিয়ে চার মারার পর উইল জ্যাকস, আদিল রশিদদেরও তুলোধুনো করতে থাকেন তিনি। কাভার ড্রাইভ, ইনসাইড আউট, লেট কাটের পসরা মেলে ধরেন সুপার এইটে অবিস্মরনীয় ইনিংস খেলে ভারতকে সেমিফাইনালে তোলার নায়ক।

পরের স্পেলে এসেও স্যামসনের হাতে মার খান আর্চার। আর্চারকে দুই ছক্কা মেরে তিন অঙ্কের কাছে গিয়ে জ্যাকসের ওয়াইড ডেলিভারিতে ক্যাচ উঠিয়ে বিদায় নেন কেরালার ব্যাটার। এর আগেই তার সঙ্গে যোগ দিয়ে স্পিন হিটের কাজ শুরু করেছিলেন দুবে। তিনি চালিয়ে যেতে থাকেন। সূর্যকুমার যাদবের ব্যর্থতার দিনে হার্দিক পান্ডিয়া (১২ বলে ২৭) স্লগ ওভারে নেমে রাখেন ভূমিকা। ৭ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে যান তিলক বর্মাও।

আড়াইশ ছাড়িয়ে যাওয়া ভারত পরে ৭ রান নিচে ইংল্যান্ডকে থামিয়ে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে উঠেছে। আগামী রোববার সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।