ছন্দহীন অভিষেকের সামনে মধুর স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা। জফরা আর্চার আর আদিল রশিদদের মতো বোলারদের বিপক্ষে সেই বিধ্বংসী সেঞ্চুরি আজও ক্রিকেটভক্তদের মনে টাটকা। আজ আবারও সেই একই ভেন্যু, একই প্রতিপক্ষ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। প্রশ্ন হলো, ব্যাট হাতে চরম দুঃসময় পার করা অভিষেক কি পারবেন ‘সেই’ স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে?
চলতি বিশ্বকাপে তার ফর্ম একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। সাত ইনিংসে করেছেন মাত্র ৮০ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ফিফটি ছাড়া এই বাঁহাতির ব্যাটে রান নেই বললেই চলে। এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় বড় ম্যাচে নিজের চেনা রূপে ফেরার প্রবল চাপ তার ওপর। তবে ২ ফেব্রুয়ারির সেই অবিশ্বাস্য ইনিংসের স্মৃতি যদি তিনি মনে করতে পারেন, তবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার কথা
সেদিন ম্যাচের শুরু থেকেই জফরা আর্চার এবং মার্ক উডকে তছনছ করে দিয়েছিলেন অভিষেক। বলের গতি ১৪৫ কিমি না কি ১৫২ কিমি—তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ ছিল না। লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার: আক্রমণ। আর্চারের গুড লেন্থ ডেলিভারি লেগ স্টাম্পের বাইরে সরে গিয়ে চার মেরে শুরু করেছিলেন তিনি।
পরের কয়েক বলে আর্চারকে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান অভিষেক। একটি ব্যাকফুট পাঞ্চে পয়েন্টের ওপর দিয়ে, অন্যটি কাভারের ওপর দিয়ে। আর্চার খুব একটা খারাপ বল করেননি, কিন্তু অভিষেক সেদিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৫২ কিমি গতিতে আসা মার্ক উডের বলকেও সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করে সীমানার বাইরে পাঠান তিনি।
সেদিন জেমি ওভারটনকে ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলে ভারতের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন অভিষেক। লেগ স্পিনার আদিল রশিদও রেহাই পাননি। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ১৩৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে দলকে ১৫০ রানের বিশাল জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি।
ফেব্রুয়ারির সেই পরিষ্কার মানসিকতা আজ বিশ্বকাপে যেন খুঁজে বেড়াচ্ছেন অভিষেক। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর বিশ্বকাপের চাপের তফাতটা এখন তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তার কথা বলতে গিয়ে জানান, বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাই আসল। গম্ভীর বলেন, ‘বিশ্বকাপের চাপ একদম আলাদা, এখানকার লড়াইটাও ভিন্ন। নিশ্চিতভাবেই এখানে জয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভুল শুধরে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বকাপে সেই সুযোগ নেই।’
প্রতিপক্ষ দলগুলোও এখন অভিষেকের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। শুরুতে অফস্পিনার কিংবা পাওয়ারপ্লেতে স্লোয়ার বল করে তাকে আটকানোর চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের বোলিং কোচ মর্নে মরকেল মনে করেন, অভিষেক মানসিকভাবে শক্ত এবং তার মূল শক্তিই হলো আত্মবিশ্বাস। মরকেলের ভাষায়, ‘অভিষেক মোটেও বেশি চিন্তা করে না। আত্মবিশ্বাসই হলো তার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। নাহলে ২০২৪ বিশ্বকাপের পর থেকে একজন ব্যাটার হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পারতেন না।’
অভিষেকের বয়স মাত্র ২৫। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা দুই বছরেরও কম। এটিই তার প্রথম বিশ্বকাপ। এই বড় মঞ্চের চাপে হয়তো তিনি কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছেন। তবে আজ সন্ধ্যায় তিনি যখন সেই চেনা মাঠে নামবেন, ইংল্যান্ডের বোলারদের শাসন করার সেই মধুর স্মৃতি নিশ্চয়ই সাহস জোগাবে। ফর্মে ফিরতে তার হয়তো শুধু একটি বড় শট বা একটি ছক্কারই অপেক্ষা।