টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য দক্ষিণ আফ্রিকা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইট পর্বেও তাদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা অব্যাহত রাখল। এইডেন মার্করামের নেতৃত্বে দারুণ ছন্দে থাকা প্রোটিয়ারা আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। এবার তাদের দাপুটে পারফরম্যান্সের শিকার হলো জিম্বাবুয়ে।
রোববার দিল্লিতে সুপার এইট পর্বের এক নম্বর গ্রুপের ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় শিরোপাপ্রত্যাশী প্রোটিয়ারা।
চলমান আসরে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার টানা সপ্তম জয়। সুপার এইটে তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বর গ্রুপের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে পা রাখল তারা। এই গ্রুপ থেকে সেমিতে তাদের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে টিকে আছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলেরই সংগ্রহ দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট করে। অন্যদিকে, চমক দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে টপকে সুপার এইটে জায়গা করে নিলেও এই পর্বে হতাশ করল জিম্বাবুয়ে। তিনটি ম্যাচেই হারল আগেই বিদায় নেওয়া দলটি।
আগামী বুধবার কলকাতায় প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে কিউইদের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছিল গত বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।
জিম্বাবুয়ের হয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। সতীর্থরা তাকে কাঙ্ক্ষিত সঙ্গ দিতে পারেননি। ব্যাট হাতে ফিফটি হাঁকিয়ে দলকে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেওয়ার পর বল হাতেও শুরুতে প্রতিপক্ষকে জোড়া ধাক্কা দেন। তবে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের তাণ্ডব ও বাকিদের অবদানে অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দল হারলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে রাজার হাতেই। ২৯ বলে ফিফটি ছুঁয়ে তিনি খেলেন ৭৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ৪৩ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন আটটি চার ও চারটি ছক্কা। এরপর ৪ ওভারে ২৯ রান খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন কেওনা মাফাকা ও করবিন বশ। একটি করে উইকেট যায় জর্জ লিন্ডা, লুঙ্গি এনগিডি ও আনরিখ নরকিয়ার ঝুলিতে। ব্যাট হাতে ১৮ বলে সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংস খেলেন ব্রেভিস। তিনি মারেন দুটি চার ও চারটি ছক্কা। এছাড়া, রায়ান রিকেলটন ২২ বলে ৩১ রান ও লিন্ডা ২১ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। তাই দুই ওপেনার মার্করাম (৫ বলে ৪ রান) ও কুইন্টন ডি কক (২ বলে শূন্য) দ্রুত ফিরলেও সমস্যা হয়নি প্রোটিয়াদের।