রোমাঞ্চকর রান তাড়ায় ইংল্যান্ডকে জেতালেন জ্যাকস-রেহান, টিকে রইল পাকিস্তান
লম্বা সময় ম্যাচের নাটাই থাকল নিউজিল্যান্ডের হাতে। শেষদিকে মোড় ঘুরে যাওয়ার আগে তাদের সেমিফাইনালে ওঠা মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদের ১৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৪ রানের বিস্ফোরক জুটিতে ইংল্যান্ড ছিনিয়ে নিল রোমাঞ্চকর জয়। এতে ঝুলে গেল নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য, আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে রইল পাকিস্তান।
শুক্রবার কলম্বোতে সুপার এইটের দুই নম্বর গ্রুপের নাটকীয় ম্যাচে ৩ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জিতেছে ইংলিশরা। টস জিতে কিউইরা ৭ উইকেটে ১৫৯ রান তোলার পর হ্যারি ব্রুকের দল ৬ উইকেটে ১৬১ রান করে লক্ষ্যে পৌঁছায়।
এই জয়ে সুপার এইটের তিন ম্যাচের সবকটি জিতে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বর গ্রুপের সেরা হলো ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ডের অর্জন ৩ পয়েন্ট।
এক ম্যাচ কম খেলা পাকিস্তানের নামের পাশে রয়েছে ১ পয়েন্ট। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া শ্রীলঙ্কার (দুই ম্যাচে শূন্য পয়েন্ট) বিপক্ষে আগামীকাল তাদের জিততেই হবে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের পয়েন্ট নিউজিল্যান্ডের সমান ৩ হলে বিবেচনায় আসবে নেট রান রেট। বর্তমানে কিউইদের রান রেট +১.৩৯০, পাকিস্তানিদের -০.৪৬১। অর্থাৎ লঙ্কানদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জেতার সমীকরণ থাকবে আগা সালমানদের।
দলের পক্ষে ২৪ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে টম ব্যান্টন যখন রাচিন রবীন্দ্রর শিকার হন, তখন ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ১১৭ রান। সামনে কঠিন চাহিদা ছিল ১৯ বলে ৪৩ রানের। চড়াও হয়ে বিস্ময় জাগিয়ে সেটা মিলিয়ে ফেলেন জ্যাকস ও রেহান।
গ্লেন ফিলিপসের করা ১৮তম ওভারে আসে ২২ রান। রেহান একটি ছক্কা মেরে স্ট্রাইক পরিবর্তনের পর জ্যাকস টানা তিন বলে হাঁকান ছক্কা, চার ও চার। পরের ওভারে কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের প্রথম ও শেষ বলে যথাক্রমে চার ও ছক্কা মেরে খেলা মুঠোয় নিয়ে আসেন রেহান।
ম্যাচের শেষ ওভারে মাত্র ৫ রানের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে কোনো ভুল করেনি ইংলিশরা। ম্যাট হেনরির বাউন্সারে পুল করে চার মেরে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ডকে হতাশায় ডোবান জ্যাকস। তিনি ১৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন চারটি চার ও একটি ছক্কায়। রেহান একটি চার ও দুটি ছক্কায় খেলেন ৭ বলে ১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস।
এর আগে দুই ওপেনার টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেন ৪২ বলে ৬৪ রানের জুটির ফায়দা নিতে পারেননি ফিলিপস বাদে কিউইদের বাকি কোনো ব্যাটার। বরং ইংল্যান্ডের স্পিনাররা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। ফলে শেষ ৭ ওভারে ৪ উইকেট খুইয়ে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতে পারে নিউজিল্যান্ড।
সাইফার্ট ২৫ বলে ৩৫, অ্যালেন ১৯ বলে ২৯ ও ফিলিপস ২৮ বলে ৩৯ রান করেন। দুটি করে উইকেট নেন জ্যাকস, রেহান ও আদিল রশিদ।
রান তাড়ায় দুই ওপেনার ফিল সল্ট (৪ বলে ২) ও জস বাটলার (৩ বলে শূন্য) ফিরে যান দ্বিতীয় ওভারের মধ্যে। এরপর ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল প্রতিরোধ গড়ে থিতু হয়ে বিদায় নিলে ফের চাপে পড়ে ইংলিশরা। ৫৮ রান নেই হয়ে যায় ৪ উইকেট।
ব্যান্টন ও স্যাম কারান তারপর হাল ধরলেও ওভারপ্রতি রানের দাবি ক্রমেই বাড়ছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদেরকে বিদায় করে নিউজিল্যান্ড যখন চালকের আসনে, তখনই সমস্ত হিসাব ওলটপালট করে দেন জ্যাকস ও রেহান।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে এবারের বিশ্বকাপে চতুর্থবারের মতো ম্যাচসেরা হলেন জ্যাকস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো একটি নির্দিষ্ট আসরে সর্বোচ্চবার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ডে শেন ওয়াটসনের পাশে বসেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার ২০১২ সালের আসরে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন চারবার।