মেসির জাদুতে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
প্রথমার্ধ কাটে সাদামাটা ফুটবলে। দ্বিতীয়ার্ধে আসে গতি। তার শুরুটা করে ইংল্যান্ড। কাউন্টার অ্যাটাকে দারুণ গোলে এগিয়ে যায় দলটি। এরপর রক্ষণ জমাট রেখে জয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু তা আর হতে দেয়নি আর্জেন্টিনা। আসলে হতে দেননি লিওনেল মেসি। তার জাদুতে দারুণ দুটি অ্যাসিস্টই যথেষ্ট হয় টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠতে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল দুটি করেছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে হারানো যায় না, ২০২৬ বিশ্বকাপে সেটাই যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছে আর্জেন্টিনা।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। মাঠের ভেতর ও গ্যালারির আবহ ছিল তীব্র, আর প্রথমার্ধে দুই দলের খেলোয়াড়রা মিলিয়ে করেন ১৯টি ফাউল। ফলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয় মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথকে।
শুরুর দিকে আর্জেন্টিনাই আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার একটি জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথম গোলটি আসে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে। ৫৫তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রসে দূরের পোস্টে থাকা অ্যান্থনি গর্ডন সহজেই বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস গনসালেসের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ক্রমেই চাপে পড়ে যায় টমাস টুখেলের দল। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তারের একটি হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে শেষ দিকে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে দুর্দান্ত এক বজ্রগতির শটে সমতা ফেরান এঞ্জো ফার্নান্দেজ। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই যোগ করা সময়ে লাউতারো গোল করে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন অবিশ্বাস্য জয়।
মূলত সমতায় ফেরার পরও থামেনি আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ব্যবধান ধরে রাখতে টুখেল চারজন সেন্টার-ব্যাক নিয়ে রক্ষণ আরও শক্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার আক্রমণের ঢেউ থামানো যায়নি। সেই কৌশলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ডান প্রান্তে বল পান মেসি। অসাধারণ দক্ষতায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিজের দুর্বল পায়ে নিখুঁত ক্রস তুলে দেন বক্সের মাঝখানে। সেখানে সম্পূর্ণ ফাঁকায় থাকা লাউতারো মার্তিনেজ হেডে বল জালে পাঠিয়ে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন।
এই বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনার তৃতীয় নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জিতেছিল তারা, কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নেয়। এবার সেমিফাইনালেও একই দৃঢ়তা দেখিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল স্কালোনির শিষ্যরা।
রোববারের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি এখন মেসিদের সামনে।
গত বছর স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফিনালিশিমা ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্লাব বিশ্বকাপের কারণে তখন তা পিছিয়ে দেওয়া হয় চলতি বছরে। কিন্তু ইরানে মার্কিন হামলার কারণে তার আর অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তবে ভাগ্যদেবী যেন এই দুইদলকেই তুলে আনে বিশ্বকাপের ফাইনালে।