ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

স্পেন বনাম বেলজিয়াম: মহারণের আগে কী বলছে ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবলের কুলীন মঞ্চে স্পেন আর বেলজিয়ামের নামডাক বহুদিনের। ১৯২১ সালের সেই প্রথম লড়াইয়ের পর থেকে সবুজ গালিচায় বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে তারা। চলতি একবিংশ শতাব্দীতে দুই দলই পেয়েছে ফুটবলারদের দুর্দান্ত সব ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’। তবে সাফল্যের খেরোখাতায় বেলজিয়ামের চেয়ে স্পেন অনেক এগিয়ে থাকায় মাঠের লড়াইগুলো সবসময়ই পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এবার আরও একটি চোখ ধাঁধানো ফুটবল দ্বৈরথ কড়া নাড়ছে দুয়ারে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ‘লা রোহা’ ও ‘রেড ডেভিলস’রা। এই ম্যাচের জয়ী দলের টিকিট মিলবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শেষ চারের লড়াইয়ের।

চলতি বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের পথচলা এখন পর্যন্ত এককথায় নিখুঁত। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র করে একটু হোঁচট খেলেও, পরের চার ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ক্লিনশিটসহ জয় তুলে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে বেলজিয়ামের যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না; নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয় এসেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। তবে মোক্ষম সময়েই নিজেদের চেনা ছন্দটা ফিরে পেতে শুরু করেছে বেলজিয়াম।

শুক্রবার রাতের সেই মহালড়াইয়ের আগে চোখ রাখা যাক দল দুটির অতীত ইতিহাসের পাতায়।

যখন শেষবার দেখা হয়েছিল

গত এক দশক ধরে স্পেন ও বেলজিয়ামের ফুটবলাররা একে অপরের ছায়াও মাড়ায়নি। আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের কথা ধরলে তো পিছিয়ে যেতে হবে আরও পেছনে। ২০১৬ সালের সর্বশেষ দেখাটি ছিল ব্রাসেলসের কিং বাউডোইন স্টেডিয়ামে, নিছকই এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ।

সেদিন বেলজিয়ামের একাদশে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনে, এডেন হ্যাজার্ড ও থিবো কোর্তোয়ার মতো বিশ্বকাঁপানো একঝাঁক সুপারস্টার। বিপরীতে স্পেনের ডেরায় ছিলেন সার্জিও রামোস, সার্জিও বুসকেটস আর ডেভিড সিলভা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির তৎকালীন স্প্যানিশ জাদুকর ডেভিড সিলভাই।

মাঠে সেদিন সিলভা যেন জাদুর কাঠি নিয়ে নেমেছিলেন। তার চোখধাঁধানো নৈপুণ্যেই ২-০ গোলের দুর্দান্ত জয় পায় স্পেন। ম্যাচের দুই অর্ধে দুটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে (যার একটি ছিল পেনাল্টি থেকে) জয় নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে বলের দখল থেকে শুরু করে গোলমুখে আক্রমণ—সবখানেই ছিল স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য। বেলজিয়ামের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা ছিল, ২০০৯ সালের ম্যাচে স্পেনের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার চেয়ে এবারের হারের ব্যবধানটা অন্তত কিছুটা কম ছিল।

বিশ্বকাপ মঞ্চে স্পেন-বেলজিয়াম দ্বৈরথ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে শুক্রবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই দুই দলের মাত্র তৃতীয় সাক্ষাৎ। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার দল দুটি মুখোমুখি হয়েছিল, সেটিও ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। শক্তির বিচারে সেবার দুই দলের মধ্যে ফারাক ছিল সামান্যই।

জান কেউলেম্যান্সের গোলে প্রথমে বেলজিয়াম এগিয়ে গেলেও, ৮৫ মিনিটে হুয়ান সেনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে স্পেন। অতিরিক্ত সময়েও ডেডলক না ভাঙায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্প্যানিশ তারকা এলোয়ের পেনাল্টি কিক রুখে দিয়ে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক বনে যান গোলরক্ষক জঁ-মারি ফাফ।

তবে ঠিক চার বছর পরেই ইতালির বিশ্বকাপে এর মধুর প্রতিশোধ নেয় স্পেন। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে প্রথমার্ধের ঝোড়ো ফুটবলে শেষ হাসি হাসে লা রোহাই। মিশেলের পেনাল্টি গোলে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার তিন মিনিটের মাথায় বেলজিয়ামের প্যাট্রিক ভারভুর্ট সমতা ফেরান। তবে মিনিট সাতেক পরেই আলবার্তো গোরিজের লক্ষ্যভেদে আবারও লিড নেয় স্পেন। ২-১ গোলের সেই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে গিয়েছিল স্পেন। যদিও শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে পারেনি কোনো দলই।

১০৫ বছরের দ্বৈরথে লা রোহার রাজত্ব

অলিম্পিকের ম্যাচ বাদ দিলে দুই দলের ২২ বারের দেখায় সিংহভাগ সময়ই শেষ হাসি হেসেছে স্পেন।

বেলজিয়ামের ঝুলিতে যে দু-একটি ঐতিহাসিক জয় নেই তা নয়, যার বড় উদাহরণ ১৯৮৬ সালের সেই টাইব্রেকার জয়। তবে সব মিলিয়ে তাদের জয়ের সংখ্যা মাত্র পাঁচ, আর মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর স্পেনের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি তারা।

অন্যদিকে স্পেনের নামের পাশে রয়েছে ১২টি জয়, যার মধ্যে শেষ আটটি ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে তারা। একবিংশ শতাব্দীতে হওয়া পাঁচটি ম্যাচের সবকটিই গেছে লা রোহার পকেটে। এই পাঁচ ম্যাচে গোল ব্যবধান ১৩-১; যা মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্যেরই প্রমাণ।

আগামী শুক্রবারে বেলজিয়াম নিশ্চয়ই চাইবে ইতিহাসের চাকাটা নিজেদের দিকে ঘোরাতে, তবে অতীত পরিসংখ্যান বলছে কাজটা মোটেও সহজ হবে না।

মুখোমুখি লড়াইয়ের খতিয়ান

  • মোট ম্যাচ: ২২

  • স্পেনের জয়: ১২

  • বেলজিয়ামের জয়:

  • ড্র:

দুই দলের লড়াইয়ে শীর্ষ গোলদাতা

ফুটবলারদেশগোল সংখ্যা
ডেভিড সিলভাস্পেন
রবার্ট কোপিবেলজিয়াম
জোহান ডেভরিন্ডটবেলজিয়াম
ডেভিড ভিয়াস্পেন