অশ্রুসিক্ত নেইমার বললেন, ‘এখানেই শেষ করলাম’
দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের খানিক আগে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়ার মাঝে তাকে নিয়েই আশায় ছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। নেইমার শেষ মুহুর্তে পেনাল্টি থেকে একটা গোল পেয়েছেন বটে। তবে তার আগেই সব শেষ। আট বিশ্বকাপ পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারার চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। এমন হারের পর অশ্রুসিক্ত নেইমার আভাস দিলেন, সেলেসাওদের সঙ্গে তার ক্যারিয়ারের গল্পটা এখানেই ফুরিয়ে গেল।
নরওয়ের কাছে নিউজার্সিতে রোববার রাতে ২-১ ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তখন শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।‘
২০১০ সালের আগস্টে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। সে ম্যাচে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলও পেয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে দেশের হয়ে ৮০টি গোল নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন নেইমার। তিনি এখন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা কিংবদন্তি পেলের চেয়ে ৩টি বেশি।
রোববারের ম্যাচে ইনজুরি টাইমে করা গোলটির সুবাদে পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলীয় হিসেবে টানা চারটি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন নেইমার। এ ছাড়া ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এক্ষেত্রে তার উপরে আছেন কেবল কাফু (১৪২ ম্যাচ) ।
ডান পায়ের কাফের পুরোনো চোটের কারণে চলতি টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের পাঁচ ম্যাচের মাত্র দুটিতে মাঠে নামতে পেরেছেন নেইমার। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন মোটে ১৫ মিনিট, আর নরওয়ের বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ম্যাচের ৬৭ মিনিটে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের ফুটবলের পোস্টার বয় হয়ে থাকা এই তারকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার ইনজুরির থাবায় পড়েছেন, যা তার স্বাভাবিক ছন্দ অনেকটাই কেড়ে নিয়েছিল। নেইমারের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল ফুটবলে এখন একটা যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে, যেখানে আগামী দিনের হাল ধরবে নতুন প্রজন্ম।