৭২ বছরের অপেক্ষা ফুরোনোর পর যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য প্রস্তুত সুইজারল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

এক, দুই কিংবা তিন দশক নয়, সুইজারল্যান্ডের অপেক্ষা দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ের। ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি জয়ের অপেক্ষা। ৭২ বছরে চারটি নোবেল পদক জিতেছে দেশটি, তিনটি ভিন্ন ইভেন্টে অলিম্পিক পদকও জিতেছে। শুধু অধরা ছিল বিশ্বকাপের নকআউটে জয়। আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে অবশেষে সেই আকাঙ্ক্ষিত জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। 

এবারের আগে সবশেষ ১৯৫৪ সালে নিজেদের দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জিতেছিল সুইজারল্যান্ড। এরপর যতবারই গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে দলটি, থেমে যেতে হয়েছে প্রথম ম্যাচেই। গত আট আসরে পাঁচবারই তারা গ্রুপ পর্বের বাধা উতরেছে, কিন্তু নকআউটে জয়ের মুখ দেখা হয়নি। এবার সেই অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন ব্রিল এম্বোলো ও ড্যান এনডোয়ে। 

দুঃস্বপ্নের মতো এই অপেক্ষা শেষ হওয়ার পর এবার দূরে নজর দিচ্ছেন আলজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল করা এনডোয়ে। ফিফাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই সুইস ফুটবলার জানিয়েছেন, ম্যাচটা জিতে তারা কতটা নির্ভার, ‘এটি দারুণ এক অনুভূতি। আমরা দেশের জন্য ইতিহাস রচনা করেছি। আমরা আরও অনেক দূর যেতে চাই, কারণ এই স্বপ্নটাই আমরা সবাই দেখেছি। শুধু খেলোয়াড়েরা নয়, পুরো দেশ এই স্বপ্ন দেখেছে। আজকের অর্জন অবশ্যই বিশেষ, কিন্তু আমরা আরও বিশেষ কিছু চাই’। 

শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে ঘানা-কলম্বিয়া ম্যাচের জয়ী দল। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই জয় সুইসদের এতটাই আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে, যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতেই তারা নিজেদের প্রস্তুত মনে করছেন, দাবি ২৫ বছর বয়সী এনডোয়ের, ‘আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। আমরা যেকোনো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আমরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মান প্রমাণ করতে চাই’।

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া সুইজারল্যান্ড দলের আক্রমণভাগ এবার বেশ ছন্দে আছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজন ভিন্ন ফুটবলার গোল করেছেন। তবে রক্ষণভাগে কিছুটা ফাঁক রয়ে গিয়েছিলো। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচেই গোল হজম করেছে তারা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্লিন শিট রাখতে পেরে খুশি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, ‘ডিফেন্ডার হিসেবে আমি সবসময়ই ক্লিন শিট রাখতে চাই। আগের ম্যাচগুলোতে সেটা হয়নি। দিনশেষে অবশ্যই জয় গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই জয় যদি আসে কোনো গোল না খেয়ে, তবে সেটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে’। 

এনডোয়ের মতো আকাঞ্জিরও আশা, সুইজারল্যান্ডের স্বপ্নযাত্রা এখানেই থেমে যাবে না, ‘আশা করছি এখানেই শেষ নয়। আলজেরিয়া ভালো খেলেছে, কিন্তু আমরা অভিজ্ঞতার মূল্য পেয়েছি’।  

এখন পর্যন্ত ১৩ বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে সুইজারল্যান্ড। বিশ্বকাপে এটিই দলটির সেরা সাফল্য।