মরক্কোর কাছে হারের দায় স্বীকার করে ডাচ কোচের পদত্যাগ
মরক্কোর কাছে নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। এমন হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন দলটির কোচ রোনাল্ড কোম্যান।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে পদত্যাগের খবর জানিয়েছেন কোম্যান।
বিবৃতিতে কোম্যান লিখেছেন, ‘গত রাতেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমি আর থাকছি না। আমরা সবাই মিলে এই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু আমরা পারিনি। এই স্বপ্নভঙ্গে আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়। কোচ হিসেবে দিনশেষে এই ব্যর্থতার দায়ভার আমার’।
৬৩ বছর বয়সী এই সাবেক ডাচ ডিফেন্ডার কোম্যান আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, অসুস্থ স্ত্রীকে পর্যাপ্ত সময় দিতে কোচিং জীবনের ইতিই টেনে ফেলতে পারেন তিনি, ‘গত কয়েক বছরে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি, জীবনে ফুটবলের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু আছে। ফুটবলই আমার জীবন, কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্য অমূল্য। যখন আপনার কোনো প্রিয়জন কঠিন কোনো লড়াই লড়ছে, তখন জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যাবে। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও আমার স্ত্রী আমাকে প্রতিনিয়ত আমাকে সমর্থন দিয়েছে, যেন কোচ হিসেবে আমি আমার কাজ শেষ করতে পারি। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না’।
কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়ার পর লুইস ফন হালের স্থলাভিষিক্ত হন কোম্যান। এর আগেও ২০১৮-২০২০ এই দুই বছর নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার অধীনে গত ইউরোর সেমিফাইনাল খেললেও ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ২৫ এর ভেতরে থাকা কোনো দলকে হারাতে পারেনি কোম্যানের দল।
ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল পরিচালক নাইজেল ডি ইয়ং আবেগী না হয়ে বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল, আর স্বপ্ন ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সত্যি বলতে আমরা এখনও সেই পর্যায় থেকে অনেকটা দূরে আছি। এটাই শেষ কথা। নিজেদের ব্যাপারে আমাদের আরও সৎ হতে হবে’।
এদিকে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করা ফুটবলাররা অনলাইনে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন। জাস্টিন ক্লুইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার এবং ক্রিসেন্সিও সামারভিলকে নিয়ে বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক এবং ঘৃণাসূচক মন্তব্য করা হয়েছে।
এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, ‘আমরা এটিকে অনলাইনে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে রিপোর্ট করব। এরপর আমাদের আইনি দল যাচাই করে দেখবে এটি কতটুকু শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রয়োজনে পাবলিক প্রসিকিউশান সার্ভিসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে’।
ফুটবলের মতো খেলায় এই ধরণের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কোনো জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেছে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, ‘ফুটবল এমন একটি খেলা যা লাখো মানুষকে একত্রিত করে, আর বৈষম্যের কাজ হলো ঠিক উল্টোটা। ফুটবল খেলায় এসবের কোনো স্থান নেই’।