ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের ‘খুব ভালো সুযোগ’ দেখছেন হামজা
শুরুটা জুতসই না হলেও টুর্নামেন্ট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল ধীরে ধীরে তাদের চেনা ছন্দ ফিরে পেয়েছে। নকআউট পর্বের ঠিক আগে সেলেসাওরা এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যেখান থেকে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের খুব ভালো সুযোগ দেখছেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশের এই তারকা ফুটবলারের মতে, পাঁচবারের বিশ্বসেরাদের হেক্সা মিশন সফল করার পথে এবার তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
সোমবার রাতে হিউস্টনে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে উদ্দীপিত জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এশিয়ার দল জাপান গ্রুপ পর্বে উপহার দিয়েছে দারুণ ফুটবল। সাম্প্রতিক ছন্দের কারণে তাদেরকে হিসেবের মধ্যে রাখছেন সবাই। সেদিক থেকে ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জটা বেশ শক্ত।
সেই চ্যালেঞ্জ পার হতে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিউস জুনিয়র। যিনি এরমধ্যে ৪ গোল করেছেন। ‘বিকাশ প্রেজেন্টস দ্য ড্রিম কাপ উইথ হামজা’ শো চলাকালীন ব্রাজিল এবং ভিনিসিউস জুনিয়র উভয়ের প্রতিই আস্থা প্রকাশ করে হামজা বলেন, ‘তাকে [ভিনিসিউস জুনিয়র] থামানো খুব কঠিন, বিশেষ করে যখন সে ফর্মে থাকে। সে অত্যন্ত দ্রুতগতির, ক্লিনিক্যাল এবং প্রচুর সুযোগ তৈরি করে। যেকোনো ডিফেন্ডারই তার বিরুদ্ধে খেলতে ভয় পাবে।’
কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলের প্রশংসা করে হামজা আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্রাজিলের খুব ভালো সুযোগ আছে (শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের), বিশেষ করে কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্বে থাকায়। তিনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন ম্যানেজার যিনি অনেক ট্রফি জিতেছেন, এবং তাদের দলে খুব প্রতিভাবান একটি স্কোয়াডও রয়েছে। রক্ষণভাগেও তাদের বেশ শক্তিশালী দেখাচ্ছে।’
তবে নকআউট ফুটবলে শুধু আক্রমণভাগ নয়, রক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের এই তারকা মিডফিল্ডার। অন্তত সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে দেখার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অবশ্যই ভিনিসিউস, তবে আমার মনে হয় রক্ষণভাগে মার্কিনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মূল ভূমিকা পালন করবেন। নকআউট ফুটবলে যে দল সবচেয়ে কম গোল হজম করে, সাধারণত তারাই টুর্নামেন্ট জেতে। ব্রাজিল যদি সেটি করতে পারে, তবে তাদের খুব ভালো সুযোগ থাকবে।’
চলতি বিশ্বকাপে 'সি' গ্রুপে থাকা ব্রাজিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে এরপরের দুটি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয় নথিভুক্ত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। এই পুনরুত্থানে ভিনিসিউস জুনিয়র এবং ম্যাথিউস কুনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তারা যথাক্রমে চারটি এবং তিনটি গোল করেছেন। এর সঙ্গে ব্রাজিলের শেষ দুটি ম্যাচে বিখ্যাত 'জোগা বোনিতো'-র ঝলক ফিরিয়ে এনেছেন।
মরক্কোর বিরুদ্ধে গোল খাওয়ার পর ব্রাজিলের রক্ষণভাগকেও ক্রমশ শক্তিশালী মনে হয়েছে, কারণ গ্রুপ পর্বে তারা আর কোনো গোল হজম করেনি। ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল, মার্কিনহোস এবং দানিলো একটি সুসংগঠিত রক্ষণভাগ গড়ে তুলেছেন। আর লুকাস পাকেতা, ব্রুনো গিমারেস এবং ক্যাসেমিরোর মিডফিল্ড ত্রয়ী শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়ার পর টুর্নামেন্টে নিজেদের ধীরে ধীরে মেলে ধরেছেন।
অন্য দিকে, জাপান তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন উভয়ের সঙ্গেই ড্র করে 'এফ' গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। যদিও জাপান পুরুষ বিশ্বকাপে কখনো কোনো নকআউট ম্যাচ জেতেনি, তারা টুর্নামেন্টজুড়ে দেখিয়েছে বড় প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে এক স্মরণীয় জয় পেয়েছিল জাপান।
তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিলই আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে। দুই দলের ১৪টি দেখায় জাপান মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে, ড্র হয়েছে দুই ম্যাচ, ১১টিতেই জিতেছে ব্রাজিল।