ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

জার্মানির বিপক্ষে ‘জীবন বদলে দেওয়া’ জয়ের খোঁজে প্যারাগুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক

তুরস্কের বিপক্ষে দশজন নিয়ে খেলে অসম্ভবকে সম্ভব করে নকআউটে পা রেখেছিলো প্যারাগুয়ে। দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি এখানেই থামতে চায় না। নকআউটে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জায়ান্ট জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছে তারা। দলটির কোচ গুস্তাভো আলফারো বলেছেন জার্মানির বিপক্ষে অঘটন ঘটাতে পারলে সেটা হবে তাদের জন্য ‘জীবন বদলে দেওয়া’ মুহুর্ত। 

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। তবে সেই ধাক্কা সামলে চমৎকারভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ২০০২ সালের পর এই প্রথম সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয় প্যারাগুয়ে।

অন্যদিকে, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি গ্রুপ 'ই'-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠলেও নিজেদের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে বসে। এমনকি আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়টিও তাদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না।

রবিবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আলফারো বলেন, ‘তারা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার, তবে আমরা মাঠে আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব। এটি আমাদের জন্য খুব বড় এবং দারুণ একটি চ্যালেঞ্জ।’

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিয়েছিল প্যারাগুয়ে। সেই বিপর্যয়কর অধ্যায়ের পর দলটির কোচের দায়িত্ব নেন এই আর্জেন্টাইন।

প্রতিকূলতা কাটিয়ে খেলোয়াড়দের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন আলফারো। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল নকআউট পর্বে পা রেখেই দল তার মূল লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার কারণে প্যারাগুয়েকে কিছুটা অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করার পর, পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত হতে এবং শেষ ৩২-এর ম্যাচটি কোথায় হবে তা জানতে তাদের দুই দিন অপেক্ষা করতে হয়।

আলফারো আরও যোগ করেন, ‘আমরা মাত্র গত রাতে দেরিতে এসে পৌঁছেছি। জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এটি আদর্শ সময় নয়। তবে দল হিসেবে এই স্কোয়াডের ওপর এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

‘আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, এটিই আমাদের আসল বিশ্বকাপ। বিষয়টিকে যে কেউ ভিন্নভাবে দেখতে পারে, তবে আমার কাছে বড় কথা হলো, আমরা এতদূর আসার পথে যা অর্জন করেছি, তার স্বীকৃতি দেওয়া।’

কোচ বলেন, ‘আমি শিখেছি যে কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষই বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পায়, হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন। আর আপনি যদি বিশ্বকাপের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেন, তবে এটি আপনার জীবনকেই বদলে দেবে।’