প্রিয় প্রতিপক্ষ জাপান, জ্বলে উঠবেন নেইমার?

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রায় এক হাজার দিন পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে ব্রাজিলের এই তারকার। এবার শেষ ষোলোতে তার সামনে এমন এক প্রতিপক্ষ, যাদের বিপক্ষে খেলতে নামলেই যেন অন্য এক নেইমারকে দেখা যায়।

পরিসংখ্যানই বলে দেয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ জাপান। কোনো দলের বিপক্ষে তিনি এত বেশি গোল করেননি। জাপানের জালে পাঁচ ম্যাচে করেছেন ৯টি গোল। এরপরের অবস্থানে আছে পেরু (৬ গোল), আর বলিভিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে করেছেন ৫টি করে গোল।

ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের আন্তর্জাতিক গোল এখন ৭৯টি, যা কিংবদন্তি পেলের চেয়ে দুটি বেশি। ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর ৬ মাস বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল তার। এখন ৩৪ বছর বয়সে তিনি পেলে, রোনালদো ও কাফুর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলা বিরল ফুটবলারদের তালিকায়।

জাপানের বিপক্ষে নেইমারের প্রথম ম্যাচ ছিল ২০১২ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। ব্রাজিলের ৪-০ গোলের জয়ে নেইমার করেছিলেন জোড়া গোল। পাশাপাশি কাকার একটি গোলেও সহায়তা করেছিলেন। এরপর ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ছিল জাপান। ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ ভলিতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নেইমার। পরে ২০২০ সালে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তের জরিপে এটিই ব্রাজিল জার্সিতে তার সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়।

জাপানের বিপক্ষে নেইমারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি আসে ২০১৪ সালে। প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৪-০ গোলে জয় পায়, আর চারটি গোলই করেন নেইমার। একটি ফ্রি-কিক পোস্টে না লাগলে গোলসংখ্যা পাঁচও হতে পারত। তৎকালীন কোচ দুঙ্গা তার সৃজনশীলতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, 'সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলাটা নেইমারের কাছে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে নামার মতোই স্বাভাবিক।'

এরপরও জাপানের বিপক্ষে গোল করে গেছেন নেইমার। ২০১৭ সালে ব্রাজিলের ৩-১ জয়ে একটি এবং ২০২২ সালে ১-০ জয়ে পেনাল্টি থেকে আরেকটি গোল করেন। ফলে মাত্র পাঁচ ম্যাচেই জাপানের বিপক্ষে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সোমবার আবার সেই জাপানের সামনে নেইমারের ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরে এসে ইতোমধ্যে নিজের ফিটনেসের বার্তা দিয়েছেন তিনি। আর ইতিহাস বলছে, জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তার পায়ে যেন গোলের জাদু নেমে আসে।