‘সবকিছুকে দলের সঙ্গে একীভূত করেন কেন’ আদ-দ্বীন প্রসঙ্গে বিরোধী দলকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত মাথাব্যথার জন্য মাথা কাটা নয়, বরং এটা হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষায় করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'অনেক সংসদ সদস্য আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন ২০০-২৫০ টাকায় সেখানে ডায়ালাইসিস করা যায়, এটা সত্যি। তারা বলেছেন, মাথা ব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। নাকি এটা অস্বীকার করবেন।'

তিনি বলেন, 'তারা কোভিডের সময় ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে ৬ জন মারা যাওয়ার কথা বলেছেন যে, তখন ইউনাইটেডের লাইসেন্স সরকার বন্ধ করেনি। বার্ন ইউনিটের আগুনের কথা বলেছেন। আমি এগুলোর সঙ্গে একমত। কিন্তু আদ-দ্বীনের ঘটনার সঙ্গে পার্থক্য হলো ইউনাইটেড হাসপাতালে, বার্ন ইউনিটের ঘটনা বিদ্যুতের দুর্ঘটনা ছিল। কিন্তু আদ-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা সেখানে কেউ যাননি, আজ সংসদে কথা বলেন।'

'ছয় শিশু যখন হাত-পা ছড়িয়ে যখন বিছানায় কাঁদছিল বাঁচার জন্য, তারা এসি বন্ধ করে দিয়েছে, ঘরে জানালা নেই কাঁচ বন্ধ, কোনো অক্সিজেন নেই। মায়েরা কাঁদছে, ছোটাছুটি করছে, একজন ডাক্তার আসেনি,' যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য বাচ্চারা ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু আমি গেছি। পরদিন দুজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন এটা অবহেলার কারণে, অক্সিজেনের অভাবে বাচ্চাগুলো মারা গেছে। আমরা কি বসে থাকব? আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনব।'

তিনি বলেন, 'সেই বাচ্চারা মারা গেল। কয়টা টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। তাও পুরো দেয়নি। তারা আমার কাছে এসেছে। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি।'

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা প্রতিটা জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন। দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবশ্যই আমার দেশের দিকে দেখব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আমি অবশ্যই আমার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ভালো দেখব। বাচ্চাগুলো মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়, আমি ডাক্তারের কথা শুনেছি, আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।'

'আমরা সেইখানে হসপিটালের পারমিশন দিয়েছি, সেখানে ছয়তলায় একটা বেকারি কারখানা করেছে, গন্ধে ঢোকা যায় না। আর এমন বেকারি, এমন স্তূপ প্লাস্টিক বর্জ্যের যে আগুন লাগলে একজন রোগী একজন অভিভাবক একজন অ্যাটেন্ডেন্ট বাঁচতে পারবে না। এই কাজগুলো করেছে তারা,' যোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'মালিক একটা দিনও দেখতে যায়নি। মালিকের অবহেলার কারণে একগুয়েমির পরিচালনা পর্ষদ চেঞ্জ করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করেছে। তারপরও আপনারা বলবেন আমরা ঠিক নাই। মাথা তো কাটতে বলিনি। মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছি। আমরা দেখছি, সরকার দেখবে। কিন্তু এটা নিয়ে আপনারা দলীয়করণ করবেন না।'