‘রোনালদো দলে থাকলে অস্বাভাবিক সমালোচনাও সামলাতে শিখতে হয়’
দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকা থাকলে সমালোচনার মাত্রাটা আর স্বাভাবিক থাকে না। তখন সবাইকে এই ভিন্ন মাত্রার সমালোচনাও সামলানো শিখতে হয়। নিন্দুকদের কড়া জবাব দিয়ে এমনটাই বলেছেন পর্তুগালের ডিফেন্ডার দিওগো দালোত। নড়বড়ে শুরুর পর বিশ্বকাপ ঘিরে কিছু মানুষ তাদের ব্যর্থতা কামনা করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
'কে' গ্রুপে তুলনামূলক দুর্বল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে এবারের আসর শুরু করেছে অন্যতম ফেভারিট পর্তুগাল। এই হতাশাজনক ফলের পর গত কয়েকটা দিন বেশ কঠিন কেটেছে তাদের। ঘুরে দাঁড়াতে আগামী মঙ্গলবার রাতে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। কিন্তু তার আগে ওই ড্রয়ের কারণে অনলাইনে সমালোচনার ঝড় ও তীব্র গালিগালাজের মুখে পড়েছে পর্তুগিজ দল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকে দালোত বলেছেন, ‘সমালোচনা আসবেই। তবে আমাদের বার্তা হলো— কোটি কোটি মানুষ পর্তুগালের জয় চায় এবং এমন কিছু মানুষও আছে, যারা পর্তুগালের জয় দেখতে চায় না।’
রোনালদোর সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার যোগ করেছেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলে আছি। আমি জানি, সমালোচনা এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। আমরা এটা থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারি না। তবে কিছু গঠনমূলক সমালোচনাও থাকে। আমাদের বার্তা একদম পরিষ্কার— দল হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ, আমরা শক্তিশালী এবং জয়ের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।’
নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি আল নাসরের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রোনালদোর। কঙ্গোর বিপক্ষে পুরোটা ম্যাচে ছিলেন বিবর্ণ, গোলের সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি। এ কারণে বিভিন্ন অঙ্গন থেকে বাড়তি নজরদারি ও বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে।
তবে দলের অধিনায়কের পক্ষ নিয়ে ঢাল হয়েছেন দালোত, ‘সমালোচনা সামলানোর ক্ষেত্রে ক্রিস্তিয়ানোর সামর্থ্য সম্পর্কে সবাই জানে। মানুষ যা-ই ছড়াক না কেন, সমালোচনা তার চারপাশের পরিবেশেরই অংশ। এই স্তরের প্রতিযোগিতায় চাপ থাকবেই। তার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো বদল হয়নি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং দলকে সাহায্য করতে সে সব সময়ই প্রস্তুত থাকবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে খেলোয়াড়রা সচেতনভাবেই নিজেদের আড়াল করে রাখছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি, ‘নিজেদের ভেতরের আলোচনার সবকিছু প্রকাশ না করেই বলছি, বিশ্বকাপের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সমালোচনা— এই দুটি নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল। যখন আপনার এমন একটি দল থাকবে, বিশেষ করে দলে যখন ক্রিস্তিয়ানোর মতো কেউ থাকবে, তখন আমাদের অস্বাভাবিক সমালোচনাও সামলানো শিখতে হবে। আর এ কারণেই পুরো দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।’
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন ধাক্কা খাওয়াকে অবশ্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দালোত, ‘আমরা এর একটি ভালো দিকও দেখছি। তা হলো— টুর্নামেন্টের শুরুতেই এই ধাক্কাটা এসেছে। ধাক্কা যত আগে আসবে, এই বিষয়টিকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য ততটাই সহজ হবে।’