টিকিট হাতে পাওয়ার আগেই বিক্রি, বিশ্বকাপ ঘিরে জমজমাট কালোবাজার
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। এরই মধ্যে জমে উঠেছে টিকিটের কালোবাজারি ও সেকেন্ডারি মার্কেট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকজন টিকিট ব্রোকারের সঙ্গে কথা বলে বিশ্বকাপ টিকিট ব্যবসার ভেতরের চিত্র তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক। যেখানে মিলেছে কোটি ডলারের লেনদেন, আগেভাগে টিকিট বিক্রি এবং বিপুল মুনাফার গল্প।
নিজেদের ‘দালাল’ বা ‘স্ক্যালপার’ নয়, বরং “ব্রোকার” বলতে পছন্দ করেন তারা। একজন ব্রোকার বলেন, 'এটা বৈধ ব্যবসা। আমি মানুষকে টিকিট পেতে সাহায্য করি। কারও মাথায় বন্দুক ধরিনি।'
আরেকজনের ভাষায়, 'আমরা অনেকটা ট্রাভেল এজেন্টের মতো। যদি বুঝি টিকিটের দাম কমবে, সেটাও ক্রেতাকে জানাই।'
জুমে হওয়া আলোচনায় তারা দেখিয়েছেন বিশাল সব স্প্রেডশিট, যেখানে রয়েছে লাখ লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি, অর্ডার এবং ডিসকাউন্টের হিসাব। পাশাপাশি বিশ্বকাপের কত টিকিট এখনো বাজারে আছে এবং ভক্তদের কীভাবে দরদাম করা উচিত, সেই পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
একজন ব্রোকার জানান, বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগেই তিনি টিকিট বিক্রি শুরু করেছিলেন। 'জুন থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত আমি প্রচুর টিকিট বিক্রি করেছি, অথচ তখনো সেগুলো আমার হাতে ছিল না,' বলেন তিনি।
তার ব্যবসার পরিমাণ বোঝাতে একটি স্প্রেডশিট দেখান তিনি। সেখানে বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের টিকিট বিক্রির বিস্তারিত হিসাব ছিল। উদাহরণ হিসেবে দেখান যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচের টিকিট।
সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচের টিকিট তিনি গড়ে ১,৩০০ ডলারে কিনে বিক্রি করেছেন ২,২০০ ডলারে। প্রতিটি টিকিটে লাভ প্রায় ৯০০ ডলার। শুধু একটি ম্যাচ থেকেই তার মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার ব্রোকার আছে। এর মধ্যে বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবসা করে হয়তো ৫০০ জন।'
বিশ্বকাপকে তিনি বলছেন নিজের ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুযোগ। 'সুপার বোল থেকে বছরে সাধারণত ১০ লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি করি। মোট ব্যবসা থাকে প্রায় ৩০ লাখ ডলার। কিন্তু বিশ্বকাপে তো ১০৪টি ম্যাচ, এটা অনেক বড় বাজার,' বলেন তিনি।
ব্রোকাররা সাধারণত বিভিন্ন সেকেন্ডারি প্ল্যাটফর্মে টিকিট বিক্রি করেন। তবে ক্রেতাকে টিকিট সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকিও থাকে। কখনো কখনো সেই জরিমানা টিকিট মূল্যের সমান বা তারও বেশি হতে পারে।
আরেকটি উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ম্যাচের টিকিট ২২৫ ডলারে কিনে পরে মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ৩ হাজার ডলারে বিক্রি করেছেন। চারটি টিকিট থেকেই লাভ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ডলার।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র হওয়ার আগেই ঝুঁকি নিয়ে টিকিট কিনেছিলেন তারা। তখন জানা ছিল না কোন দল কোথায় খেলবে। কিন্তু সেটিই ছিল বড় লাভের সুযোগ। 'আপনি হয়তো কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট পাবেন, আবার কলম্বিয়া বনাম পর্তুগালও পেতে পারেন। ভাগ্য ভালো হলে সেটাই "হোম রান",' বলেন তিনি।
প্রথম দিকের টিকিট বিক্রির ধাপগুলোতে প্রচুর টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল বলে জানান এই ব্রোকার। 'শুরুতে ব্যাপারটা ছিল যেন পানিতে মাছ শিকার করার মতো সহজ,' বলেন তিনি।
তবে ফিফার টিকিট বিক্রির সীমাবদ্ধতা পাশ কাটাতে নানা কৌশলও ব্যবহার করেছেন ব্রোকাররা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, যেখানে কখনো ৪০০ সদস্যও থাকে, একে অন্যকে বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানো হয়েছে, কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে একাধিক টিকিট কেনা যায়।
ফিফা একজনকে প্রতিদিন একটি ম্যাচের সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনার সুযোগ দিলেও, ভিন্ন ভিন্ন দিনের একাধিক ম্যাচের টিকিট নেওয়া সম্ভব ছিল। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে ব্রোকাররা। 'ভ্রমণসূচি কতটা কঠিন বা অসম্ভব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। মূল কথা ছিল যত বেশি সম্ভব টিকিট নেওয়া,' বলেন তিনি।