বৃষ্টি বিঘ্নিত ডিপিএল: ডিএলএসে ফয়সালা চারটি ম্যাচের, রিজার্ভ ডেতে গড়াল দুটি
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুমের তৃতীয় রাউন্ডে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। রোববার অনুষ্ঠিত ছয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই বৃষ্টির কারণে খেলা বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়েছে ডিএলএস (ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন) পদ্ধতিতে। আর বাকি দুটি ম্যাচ রিজার্ভ ডেতে নিতে বাধ্য হয়েছেন আম্পায়াররা।
ডিএলএস পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ১০ রানে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২০ রানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৬০ রানে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে এবং নাটকীয় লড়াইয়ে সিটি ক্লাব ১ রানে ঢাকা লেপার্ডসকে হারিয়েছে।
এদিকে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বনাম রূপগঞ্জ টাইগার্স এবং আবাহনী লিমিটেড বনাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচ দুটি রিজার্ভ ডেতে গড়িয়েছে। পরের ইনিংসে ন্যূনতম ২০ ওভার খেলা সম্পন্ন না হওয়ায় ম্যাচ দুটি যেখানে বন্ধ হয়েছিল, আগামীকাল সোমবার সেখান থেকেই আবার শুরু হবে।
বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স-গাজী গ্রুপ
ক্রিকেটার্স একাডেমিতে নুরুল হাসান সোহানের ৬০ বলে ৭৩ ও ইমরানুজ্জামানের ৭৭ বলে ৫৯ রানের সুবাদে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ২৩৫ রানে থামে। জবাবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৯ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টিতে খেলা বিঘ্নিত হয়। পরবর্তীতে তাদের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ ওভারে ১৯৪ রান।
গাজী গ্রুপ জয়ের পথেই ছিল। এক পর্যায়ে তারা ৩০তম ওভারে ১৭৩ রানে ৬ উইকেট পৌঁছে যায়। কিন্তু নাটকীয় ধসের মুখে পড়ে শেষ ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বসুন্ধরার দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেন।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-প্রাইম ব্যাংক
বিকেএসপি তিন নম্বর মাঠে হাবিবুর রহমান সোহানের ৫৬ বলে ৬১ রানের সৌজন্যে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২২৭ রানে অলআউট হয়। জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু উভয় ইনিংসে ২০ ওভার সম্পন্ন হয়েছিল এবং খেলা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি, তাই ডিএলএস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। শাহাদাত হোসেন দিপু ৭১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে টানা তৃতীয় জয় এনে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিয়ে যান।
গুলশান-অগ্রণী ব্যাংক
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে শাহাদত হোসেন সবুজ ১২১ বলে ১৩২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং শাহরিয়ার সাকিব ৯৪ বলে ৭৫ রান করে অবদান রাখেন। ফলে টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০১ রান সংগ্রহ করে।
অগ্রণী ব্যাংকের রান তাড়া করার সময় বারবার বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা ও ভেজা আউটফিল্ড বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ১৬ ওভারে তাদের সংগ্রহ যখন ২ উইকেটে ৮৯ রান, তখন নতুন লক্ষ্য দেওয়া হয় ২৬ ওভারে ১৯৩ রান। তবে তারা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এবং বাকি ৮ উইকেট মাত্র ৪৩ রানে হারিয়ে ২৪.২ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয়। এতে গুলশান এবারের টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম জয়ের দেখা পায়।
অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৫৭ বলে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন। গুলশানের হয়ে আব্দুর রহিম, নাঈম হোসেন সাকিব ও ফরহাদ রেজা তিনটি করে উইকেট নেন।
ঢাকা লেপার্ডস-সিটি
বিকেএসপি চার নম্বর মাঠে জাকির হাসানের ১৩৪ বলে ১৩৭ রান ও মঈন খানের ৬৬ রানের ওপর ভর করে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা লেপার্ডস ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৬ রান সংগ্রহ করে। সিটি ক্লাবের ইনিংস ২০.১ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান থাকা অবস্থায় বৃষ্টিতে খেলা থেমে যায়। যেহেতু তারা ডিএলএস পদ্ধতিতে পার স্কোর থেকে মাত্র ১ রানে এগিয়ে ছিল এবং খেলা পুনরায় শুরু করা যায়নি, তাই তাদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এটি তিন ম্যাচে সিটি ক্লাবের দ্বিতীয় জয়।
মোহামেডান-রূপগঞ্জ টাইগার্স
ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নাঈম শেখ ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন (পাঁচটি চার ও ১২টি ছক্কা)। ইয়াসির আলীও উত্তাল ব্যাটিংয়ে করেন ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রান। এতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায়।
এরপর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ৫ ওভারে ২৪ রান খরচায় শিকার করেন ৪ উইকেট। তার তোপে ১৬.৫ ওভারে ৫৩ রানে রূপগঞ্জ টাইগার্স ৫ উইকেট হারানোর পর বৃষ্টি শুরু হয়। আর খেলা সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচটি রিজার্ভ ডেতে নেওয়া হয়েছে।
আবাহনী-ব্রাদার্স ইউনিয়ন
শিরোপাধারী আবাহনী বনাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচটিও একই পরিণতির শিকার হয়েছে। ব্রাদার্স ১২ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে আবাহনী ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান সংগ্রহ করে। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ১১৩ বলে ৮৩, এস এম মেহেরব হাসান ৭৬ বলে ৭৭ ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৪০ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসের খেলেন।