প্রত্যাবর্তনে রঙিন ইউনাইটেড, হতাশা কাটিয়ে বায়ার্নের তাণ্ডব, কোমোর স্বপ্নের অভিষেক
দুই বছর পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরে প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষটা দারুণভাবে রাঙাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠে নবাগত আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করল তারা। অন্যদিকে, প্রত্যাশিত বড় জয়েই এবারের আসর শুরু করল জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ। গত মৌসুমের চমক নরওয়ের বোডো/গ্লিমটকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে নিজেদের মাঠে তাদের সবগুলো গোলই এলো ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।
সাবাহ মুখ থুবড়ে পড়লেও ইউরোপের শীর্ষ এই ক্লাব প্রতিযোগিতায় অভিষেকেই চমক দেখাল ইতালির ক্লাব কোমো। স্বপ্নের মতো শুরু পেয়ে ঘরের মাঠে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল তারা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রত্যাবর্তনের রঙে ইউনাইটেড
এক দশক আগেও সাবাহ নামে কোনো ক্লাবের অস্তিত্ব ছিল না। গত মৌসুমে ঘরোয়া লিগের শিরোপা জিতে তারা পা রাখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাইপর্বে। সেখানে ইসরায়েলের হাপোয়েল বেয়ের-শেভাকে হারিয়ে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর সঙ্গে গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
তবে দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরা ম্যান ইউনাইটেডের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লড়াই করাটা তাদের জন্য একটু বেশিই কঠিন ছিল। কোচ মাইকেল ক্যারিকের দলের সামনে আক্ষরিক অর্থেই উড়ে গেছে নবাগতরা।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে রেড ডেভিলদের গোল উৎসবের সূচনা করেন মাথেউস কুনিয়া। এরপর বিরতির আগে তিন মিনিটের মধ্যে জাল খুঁজে নিয়ে ব্যবধান বাড়ান ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বেনিয়ামিন সেসকো। আর ৬৮তম মিনিটে সাবাহর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সময়টা ভালো যাচ্ছে না ম্যান ইউনাইটেডের। আসরের প্রথম তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ মাত্র ৪ পয়েন্ট। হাল সিটির কাছে হারের পর ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে জিতলেও এভারটনের সঙ্গে ড্র করে ফের হোঁচট খেয়েছে তারা। সাবাহর বিপক্ষে এই ম্যাচের পারফরম্যান্স তাই তাদেরকে জোগাবে আত্মবিশ্বাস।
প্রথমার্ধের হতাশা কাটিয়ে বায়ার্নের গোলবন্যা
প্রথমার্ধটা বেশ হতাশাতেই কাটে জার্মান বুন্ডেসলিগার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বোডো/গ্লিমট তাদের আটকে রাখে দারুণভাবে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে জামাল মুসিয়ালা বল জালে জড়ালে যেন গোলের নেশা পেয়ে বসে বাভারিয়ানদের।
ম্যাচের ঘণ্টার কাঁটা পেরোতেই হেড থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেইন। বায়ার্নের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ৩৯ ম্যাচে এটি তার ৩৪তম গোল। এরপর জোরালো হাফ-ভলিতে স্কোরলাইন ৩-০ করেন আলফনসো ডেভিস।
ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা ততক্ষণে পুরোদমে ছন্দ ফিরে পায়। সেই ধারায় শেষদিকে নিজেকে মেলে ধরেন মাইকেল ওলিসে। কেনের গোলে অবদান রাখার পর নিজেই চমৎকার দুটি গোল করেন তিনি।
নিজেদের মাঠে কোমোর স্বপ্নের অভিষেক
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবারই প্রথম জায়গা করে নেওয়া কোমো মাঠের নামার আগেই পড়ে চ্যালেঞ্জের মুখে। উয়েফার মানদণ্ড অনুযায়ী নিজেদের মাঠ স্তাদিও সিনিয়ালিয়া প্রস্তুত করা নিয়ে রীতিমতো সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয় ইতালিয়ান সিরি আর ক্লাবটিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না পারলে ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো তাদের খেলতে হতো ২০০ কিলোমিটার দূরের ক্লাব সাসসুয়োলোর মাঠে।
তবে শেষ পর্যন্ত সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দলকে সেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। নিজেদের আঙিনায় অভিষেকটা তারা উদযাপন করে দুর্দান্ত জয়ে।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে কোমোর হয়ে উৎসবের শুরুটা করেন মার্তিন বাতুরিনা। এরপর ৩৮তম মিনিটে লিড দ্বিগুণ করেন তাসো দুভিকাস। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে আসান দিয়াও ব্যবধান বাড়ানোর পর সফরকারী লাইপজিগের আন্দ্রিয়া মাকসিমোভিচ একটি গোল শোধ করেন। এরপর যোগ করা সময়ে জাল কাঁপিয়ে কোমোর অনায়াস জয় নিশ্চিত করেন মাক্সিমো পেরোনে।