৩০০ গোলের মাইলফলকে হালান্ড, ম্যান সিটির তিনে তিন

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচের ২৬তম মিনিট। ডানদিক থেকে অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর ক্রসে লাফিয়ে হেড করে জাল খুঁজে নিলেন আর্লিং হালান্ড। এতে ক্যারিয়ারের নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করে ফেললেন নরওয়েজিয়ান এই 'গোলমেশিন'। ক্লাব পর্যায়ের শীর্ষ স্তরে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩০০ গোল পূর্ণ হলো তার।

শনিবার রাতে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে হালান্ডের লক্ষ্যভেদে কভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে আসরের প্রথম তিনটি ম্যাচেই জিতল তারা। পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানও মজবুত করল এনজো মারেস্কার শিষ্যরা।

ম্যান সিটির জার্সিতে হালান্ডের এটি ১৬৫ নম্বর গোল। এর আগে নিজ দেশের ক্লাব মোলডের হয়ে ২০টি, অস্ট্রিয়ান ক্লাব রেড বুল সালজবুর্গের হয়ে ২৯টি ও জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৮৬টি গোল করেছেন তিনি। এছাড়া, নরওয়ে জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হালান্ড। মাত্র ৫৫ ম্যাচ খেলেই করেছেন ৬২ গোল।

৩০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পাশাপাশি নতুন একটি রেকর্ডও গড়লেন হালান্ড। ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এখন প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটির হয়ে হেড থেকে সর্বোচ্চ গোলের মালিক। এই নিয়ে ২০ বার তিনি বলে মাথা ছুঁইয়ে জাল খুঁজে নিলেন।

ম্যাচের ৭৮ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও জয়ের জন্য ঘাম ঝরাতে হয়েছে সিটিজেনদের। গোলমুখে তাদের নেওয়া ১৫টি শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ১২টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে নাম লেখানো কভেন্ট্রি।

সময় যত গড়িয়েছে, ততই ভয় ধরিয়েছে কোচ ফ্র‍্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের অধীনে থাকা কভেন্ট্রি। শুরুর পাশাপাশি শেষদিকেও তারা গোলের জন্য মরিয়া ছিল। তবে সফরকারীদের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জাল রাখেন অক্ষত।

জয় কষ্টার্জিত হয়ে ওঠার পেছনে ম্যান সিটির দায়ও কম নয়। গোটা মাঠে আধিপত্য করলেও ফিনিশিংয়ে ভুগেছে তারা। জয়সূচক গোল করা হালান্ড প্রথমার্ধে দুবার গোলরক্ষক কার্ল র‍্যাশওর্থকে একা পেয়েও জাল কাঁপাতে ব্যর্থ হন।

বাধা হয়ে দাঁড়ায় পোস্টও। ২৩তম মিনিটে রায়ান চেরকির শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। আর ৭৮তম মিনিটে বদলি ফিল ফোডেনের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে আটকে দেন কভেন্ট্রির ডিফেন্ডার ববি থমাস।

এই ম্যাচ দিয়ে ম্যান সিটির জার্সিতে অভিষেক হয়েছে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের। শুরুর একাদশে থেকে ৭৬তম মিনিট পর্যন্ত খেলেন তিনি। তার বদলি হিসেবে নামেন এবারের গ্রীষ্মে ইতিহাদে নাম লেখানো আরেক মিডফিল্ডার মরোক্কান আইয়ুব বুয়াদ্দি।