রাফিনিয়া-ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার বড় জয়
গোলের বন্যায় নতুন মৌসুমে নিজেদের দাপটের জানান দিয়ে চলেছে বার্সেলোনা। এবার রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে পাঁচ গোলের উৎসবে মাতল হান্সি ফ্লিকের দল। যেখানে জোড়া গোল করে করেছেন লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়া। তাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়ে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় পেল বার্সেলোনা।
ক্যাম্প ন্যুতে সোমবার রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচটি ছিল ইয়ামালের জন্য আরও বিশেষ, বার্সার জার্সিতে ৫০ গোলের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোল ছাড়া অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতীর সুবাধে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। তবে প্রথম ধাক্কাটা আসে স্বাগতিকদের বিপক্ষেই। জুলস কুন্দের ভুলের সুযোগ নিয়ে আলভারো গার্সিয়া বল বাড়িয়ে দেন সার্জিও কামেয়োর দিকে। প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বার্সার জালে বল জড়িয়ে দেন রায়োর এই ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বার্সা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রাফিনিয়া অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে পাথে সিসকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। এরপর রায়োর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন ইয়ামাল।
১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের গোলটি ছিল বিশেষ। এই গোলের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনার হয়ে ৫০ গোল পূর্ণ করেছেন তিনি। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, লিওনেল মেসির চেয়েও দুই বছর কম বয়সে এই মাইলফলক ছুঁলেন স্প্যানিশ তারকা।
প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল চালিয়ে যায় বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সার ব্যবধান আরও বাড়ে। ফ্লোরিয়ান লেজুনে অ্যান্থনি গর্ডনের ক্রস সামলাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে দেন। এতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। কর্নার থেকে জাভি এসপার্ট সার্জিও কামেয়োকে সামলাতে ব্যর্থ হলে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রায়োর ফরোয়ার্ড। ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার আশাও জাগায় সফরকারীরা।
শেষ পর্যন্ত সেই আশা অবশ্য আর টেকেনি। অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। এতে চলতি মৌসুমে লা লিগায় তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে, যা তাকে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
যোগ করা সময়ে ইয়ামালও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বার্সার জয়কে আরও বড় করেন। বক্সের বাইরে থেকে করিম আদেয়েমির পাস পেয়ে দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে পাঠান তিনি।
ম্যাচটি গ্যালারি থেকে দেখেছেন আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দলবদলের শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখন রাফিনিয়ার সঙ্গে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইও তৈরি হতে পারে।
জেসুসকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, 'আমার কাছে সে একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার। অবশ্যই সে আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে আমাদের অনেক কিছু দিতে পারবে। সে এখানে এসেছে দেখে আমরা খুব খুশি।'
তবে পাঁচ গোলের জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ফ্লিক। বিশেষ করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর রায়োকে দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ দেওয়াটা তাকে হতাশ করেছে।
ফ্লিক বলেন, 'বিশেষ করে ঘরের মাঠে ৩-১ এগিয়ে থাকার পর আমাদের ম্যাচটা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু আমাদের দলের মানসিকতা এবং কিছু খেলোয়াড় সবসময় আক্রমণ করতে চায়।'