সেসময়ের ক্রীড়ামন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ে বিতর্কের দাগ

স্পোর্টস ডেস্ক

স্বাগতিক হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয় নিয়ে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর জন্ম নিল বড় এক বিতর্ক। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে দলটির আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল। এত বছর পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন দেশটির তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মারি-জর্জ বুফে।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিতে বর্তমানে প্রচারিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র ‘জিদান: দ্য মেকিং অব আ লেজেন্ড’। প্রামাণ্যচিত্রটি কিংবদন্তি ফুটবলার ও ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের উত্থান নিয়ে নির্মিত হয়েছে।

এই প্রামাণ্যচিত্রে ফ্রান্সের সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী বুফে নিজেই দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর এক স্বীকারোক্তি। সেখানে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের আগে দলটির খেলোয়াড়দের আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্যারিসে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপে ফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। অবিস্মরণীয় জয়ে জোড়া গোল করে পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় নায়ক বনে যান জিদান। তবে সেই মহাকাব্যিক বিশ্বজয়ের পেছনের স্বচ্ছতা নিয়েই এখন বিশাল প্রশ্নচিহ্ন দাঁড়িয়ে গেল।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৭ সালে টিনসে ফ্রান্সের অনুশীলন ক্যাম্পে। সেসময় দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ডাক্তার অ্যালেন গার্নিয়ার খেলোয়াড়দের আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষার মুখোমুখি করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৎকালীন কোচ আইমে জ্যাকে ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) কর্তারা।

সংগৃহীত নমুনাগুলোর ফল নেগেটিভ আসলেও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে দাবি করে ডোপিং পরীক্ষার তীব্র সমালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে গার্নিয়ারকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়, ‘বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফরাসি দলকে আর যেন কোনো ডোপিং পরীক্ষার মাধ্যমে বিরক্ত করা না হয়।’

সহমত প্রকাশ করে বুফে বলেছেন, ‘ডাক্তার গার্নিয়ার যদি তা বলে থাকেন, তবে তা অবশ্যই সত্য।’ একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তটি ডোপিংবিরোধী লড়াইয়ে ‘এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়া’ ছিল বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।

সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রীর এই অকপট স্বীকারোক্তি ফরাসি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কারণ ২০১৩ সালে ফরাসি সিনেট কমিটির সামনে শপথ নিয়ে বুফে দাবি করেছিলেন, ‘আমরা কখনোই এই ধরনের কোনো নির্দেশনা দিইনি।’ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বজায় রাখা সেই সরকারি বয়ান এবার পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছেন তিনি।

গার্নিয়ার আরও দাবি করেছেন, আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষা বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশটি সরাসরি এসেছিল তৎকালীন ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘মাতিনিওঁ’ থেকে। বুফেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘নির্দেশনাটি সম্ভবত মন্ত্রীপর্যায়ের দপ্তরগুলো থেকেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।’

তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বদলে গিয়েছিল বুফের অবস্থান। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমরা আবার ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করি।’

২৮ বছর আগের এই তোলপাড় করা ঘটনাটি এমন এক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এলো, যখন সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জিদান। তার আগে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই পদে ছিলেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিদিয়ের দেশমের।