ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি উয়েফার!

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফিফা ও উয়েফার দ্বন্দ্ব এবার আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়াচ্ছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বহুল আলোচিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প বাতিল হয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্তে থামছে না ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোকে পাঠানো এক চিঠিতে উয়েফা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা, সালিশি কার্যক্রম কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরও ফিফার সঙ্গে সংঘাত থেকে সরে আসছে না ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ ছিল ইনফান্তিনোর একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ শতাংশ অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। পরিকল্পনাটি সামনে আসার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

উয়েফার পাঠানো চিঠিতে শুধু ফিফা বা ইনফান্তিনোকেই সতর্ক করা হয়নি। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের কাছেও একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী জোশুয়া কুশনার, ট্রিপঅ্যাডভাইজারের সভাপতি গ্রেগ ম্যাফি এবং মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জে পি মরগান।

তবে আইনি পদক্ষেপের হুমকির পাশাপাশি উয়েফা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিফা এবং ইনফান্তিনোকে প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি, কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে তারা। সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে এসব তথ্য প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজন হতে পারে বলেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উয়েফার অবস্থান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা তথ্য মুছে ফেলা, গোপন করা কিংবা পরিবর্তন করার ঘটনা ঘটলে সেটিকে প্রমাণ নষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প বাতিল হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়ে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে ফিফা।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইনফান্তিনো নিজেই প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাটি সামনে আসার পর ইউরোপে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। পরে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানায়।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক একটি প্রতিযোগিতাকে বেসরকারি বিনিয়োগের পণ্যে পরিণত করার বিরোধিতা করে উয়েফা সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। এমনকি একপর্যায়ে ফিফার এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতাগুলো বয়কট করার হুমকিও দিয়েছিল ইউরোপীয় সংস্থাটি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি স্থগিত করেন। কিন্তু প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পরও উয়েফার সঙ্গে তার সংঘাত থামেনি। বরং এবার আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা সামনে আসায় ফিফা ও উয়েফার মধ্যকার সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফিফার পক্ষ থেকে শুরু থেকেই বলা হয়েছিল, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ফুটবল বিক্রি করা নয়; বরং ফিফার বাণিজ্যিক সম্পদের অপ্রকাশিত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে আরও অর্থ বিনিয়োগ করা। কিন্তু উয়েফা ও অন্যান্য কনফেডারেশনের আপত্তির মূল জায়গা ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রবেশের সম্ভাবনা।

এখন সেই বিতর্কই নতুন করে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হলেও এর পরিকল্পনা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ফিফার কোন কোন সংস্থা কতটা ভূমিকা রেখেছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইছে উয়েফা।