এনআইডি সংশোধন: বছরে গড়ে ১০ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রতিবছর গড়ে প্রায় দশ লাখ আবেদন জমা পড়ে। গত সাড়ে ৬ বছরে এনআইডি সংশোধনে করা ৬২ লাখ ৩০ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে ইসি। বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
রোববার ইসির এনআইডি শাখার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এনআইডি সংশোধনের ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭০টি আবেদন জমা পড়েছে ইসির কাছে। গড়ে প্রতিবছরে ৯ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭টি এবং প্রতিদিন ২ হাজার ৬৮৮টি আবেদন করেন দেশের নাগরিকরা।
২০২০ সাল থেকে ইসির কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) চালু হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৮টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। বাতিল হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, চার ক্যাটাগরিতে—‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।
‘ক’ ক্যাটাগরিতে বাবা-মাসহ ব্যক্তির নামের বানান সংক্রান্ত সংশোধন ও ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সঙ্গে মিল রেখে নামের অংশ যোগ করা হয়ে থাকে।
‘খ’ ক্যাটাগরিতে হয় ছবি, স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন পরিবর্তন। ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে স্বামী-স্ত্রীর নাম যোগ করাসহ বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করা হয়।
‘গ’ ক্যাটাগরিতে পুরো নাম, বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন (সিঙ্গেল ইউনিট) এবং ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জন্মতারিখ, বয়সসহ বাবা-মায়ের নামের আমূল পরিবর্তন করা হয়।
বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টির মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির ৭৮ হাজার ৭৭৮টি, ‘খ’ ক্যাটাগরির ২৫ হাজার ৪১০টি ও ‘ক’ ক্যাটাগরির ১৯ হাজার ৪৩৩টি আবেদন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করে থাকেন এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি)। বাকি তিন ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করে থাকেন যথাক্রমে সহকারী, উপজেলা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।

নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা এত বেশি কেন—জানতে চাইলে এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এনআইডি সংশোধনের জন্য সবচেয়ে জটিল কাজ হচ্ছে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা।’
‘এই ক্যাটাগরির বেশিরভাগ আবেদনগুলোতে দেখা যায়, সাপোর্টিং ডকুমেন্ট—পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন সনদ, ট্রাভেল ডকুমেন্ট, বাব-মার এনআইডিসহ সব তথ্য আছে। কিন্তু সংশোধনের জন্য উল্লেখ করা বয়সের হিসাবে পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ৮ থেকে ১০ বছর, যা অযৌক্তিক,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ থেকে ছয়বার নিষ্পত্তির পরও এই ক্যাটাগরিতে আবার একই ধরনের অযৌক্তিক সংশোধন চেয়ে অনলাইনে আবেদন করা হয়। ফলে অপেক্ষমাণ তালিকা আরও দীর্ঘ হয়।’
কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করা হয় জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন চাকরির আবেদন কিংবা বিদেশ যাওয়ার জন্য দ্রুত এনআইডি সংশোধনের প্রয়োজন হয়। এসব কারণ উল্লেখসহ আবেদন পেলে আমরা সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে থাকি।’
‘তবে যেসব আবেদনে খারাপ উদ্দেশ্য বা প্রতারণা প্রতীয়মান হয়, সেগুলো আমরা বাতিল করে দেই। আবেদন সংশোধনযোগ্য হলে আমরা তা দ্রুতই নিষ্পত্তি করি। সংশোধনযোগ্য না হলে সেগুলো অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়,’ যোগ করেন এ কর্মকর্তা।
এদিকে, ‘ঘ’ ক্যাটাগরির এনআইডি সংশোধনের আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে গত ১৬ জুলাই চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ইসি। এনআইডির একজন পরিচালক, একজন উপপরিচালক ও দুজন সহকারী পরিচালককে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতারের সই করা এক চিঠিতে জানা যায়, এই কমিটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সুপারিশ দেবে।
পাশাপাশি কমিটিকে এনআইডি পরিবর্তনের ধরন শ্রেণিকরণ, নিষ্পত্তির প্রমাণের দলিল যাচাই, অপর্যাপ্ত প্রমাণ থাকলে আবেদন বাতিল করা, পুনঃদাখিলকৃত আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকলে নিষ্পত্তির সুপারিশকরণ, সিএমএস পোর্টালে মডিফিকেশনের জন্য মতামত দেওয়া এবং এনআইডি লক-আনলক ও রোলব্যাকের সুপারিশ করার দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সবশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।