গাত্তুসোর নজর স্কিলে নয়, খেলোয়াড়দের মানসিকতায়
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্কিল নয়, মানসিক দিকেই বেশি জোর দিচ্ছেন ইতালির কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফ সেমিফাইনালকে সামনে রেখে নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত ও চাপমুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত দুই বিশ্বকাপ ২০১৮ ও ২০২২-এ খেলতে না পারার তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইতালিকে। তাই টানা তৃতীয়বার ব্যর্থতার শঙ্কা কাটাতে গাত্তুসোর মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানসিক দৃঢ়তা ফিরে পাওয়া।
২০০৬ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইতালির পারফরম্যান্সও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গত ১২ বছরে বিশ্বকাপে মাত্র একটি জয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা। তাই ইতিহাসের ভার মাথায় নিয়েই এবার মাঠে নামতে হবে আজ্জুরিদের।
সোমবার কভারচিয়ানোর অনুশীলন কেন্দ্রে গাত্তুসো বলেন, 'আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে হালকা রাখতে হবে। ইতালি শেষ দুই বিশ্বকাপে খেলেনি, কিন্তু তাদের ওপর বাড়তি চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা ইউরো জিতেছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলেছে, তারা বড় ম্যাচে অভ্যস্ত।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'কোনো অজুহাত নেই। আমাদের শুধু বৃহস্পতিবারের ম্যাচটা নিয়েই ভাবতে হবে। সঠিক মানসিকতা ও শান্ত ভাব বজায় রাখতে হবে। প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, তবে আমাদের মাথা ঠান্ডা রেখে বিপদের গন্ধ বুঝতে হবে।'
এই ম্যাচে জয় পেলে ইতালিকে ৩১ মার্চ ফাইনালে খেলতে হবে ওয়েলস জাতীয় ফুটবল দল অথবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে, যেখানে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট।
তবে ম্যাচের আগে একটি ধাক্কাও খেয়েছে ইতালি শিবির। ফেদেরিকো কিয়েসা শারীরিক সমস্যার কারণে দল ছেড়ে চলে গেছেন। গাত্তুসো বলেন, 'তার কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল, তাই তাকে এখানে রাখার কোনো মানে ছিল না। সে নিজেও স্বস্তিতে ছিল না, তাই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
ম্যাচের ভেন্যু নিয়েও ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইতালির কোচ। বড় স্টেডিয়াম সান সিরোর বদলে ২৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্তাদিও দি বেরগামো বেছে নিয়েছেন তিনি। তার মতে, বড় স্টেডিয়ামে শুরুতেই ভুল হলে দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দলকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
গাত্তুসোর ভাষায়, '৬০ হাজার দর্শকের স্টেডিয়ামে কয়েকটা ভুল পাসের পরই দর্শকরা শিষ দিতে শুরু করতে পারে। আমি এমন পরিবেশ চাই, যেখানে সত্যিকারের সমর্থন থাকবে, একটা "কড়াইয়ের" মতো উত্তপ্ত পরিবেশ।'