টেন্ডুলকারের সেই ২৪১ থেকে শিক্ষা নিতে বললেন হান্নান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্যাটিং মানেই বাড়তি পরীক্ষা। গতি, বাউন্স আর মুভমেন্টের সঙ্গে লড়াই করে রান তুলতে হয় ব্যাটারদের। তাই আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা ও ধৈর্য দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার।

২৩ বছর আগে বাংলাদেশের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের হয়ে সবচেয়ে সফল ব্যাটার ছিলেন হান্নান। নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান ব্যাটারদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি, 'ড্রাইভ করার মতো জায়গায় বল পেলে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের বাউন্সি উইকেটে ড্রাইভ খেলা সবসময়ই কঠিন। এর সঙ্গে বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্টও থাকে।'

২০০৩ সালের সফরের স্মৃতিও সামনে এনেছেন হান্নান। সেই সফরে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তবে পেসারদের বিপক্ষে খুব বেশি রান করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন সাবেক এই ব্যাটার, '২০০৩ সালে আমি দুটি পঞ্চাশ করেছিলাম। সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, স্পিনের বিপক্ষেই আমি সবচেয়ে বেশি রান করেছি। পেসারদের বিপক্ষে খুব বেশি রান করতে পারিনি। পেসাররা ব্যাটারদের কয়েকটি শট খেলতে প্রলুব্ধ করবে।'

অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি কন্ডিশনে পেসারদের ফাঁদে পা না দেওয়ার ক্ষেত্রে হান্নানের পরামর্শের সঙ্গে মিলে যায় শচীন টেন্ডুলকারের ঐতিহাসিক সিডনি টেস্টের ব্যাটিংয়ের কৌশলও। ২০০৪ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ২৪১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টেন্ডুলকার। ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি ও নাথান ব্র্যাকেনদের সামলাতে সেই ইনিংসে অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে অফ স্টাম্পের বাইরে সামান্য ফুল লেংথের বলগুলোও ড্রাইভ না করে ছেড়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় কিংবদন্তি।

এর ফলে স্লিপ, গালি কিংবা উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে ফেলেছিলেন টেন্ডুলকার। বরং অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা হতাশ হয়ে যখন তার শরীর লক্ষ্য করে বল করেছেন, তখন সেখান থেকেই রান বের করে নিয়েছেন তিনি।

পরে সেই ইনিংসের কথা স্মরণ করে টেন্ডুলকারও জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বোলাররা যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে সেই বল খেলতে বাধ্য না করতে পারছেন, ততক্ষণ তিনি খেলবেনই না।

হান্নানের পরামর্শও ঠিক সেখানেই, অস্ট্রেলিয়ায় রান করার জন্য প্রতিটি বলকে নিজের স্কোরিং শট বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং কোন বল খেলতে হবে আর কোনটি ছেড়ে দিতে হবে, সেটিই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি। তার ভাষায়, 'বিশ্বের সেরা বোলাররাও ব্যাটারদের ড্রাইভ খেলতে প্রলুব্ধ করবে। কিন্তু কোন জায়গাটা তার স্কোরিং জোন, সেটা ব্যাটারকেই বুঝতে হবে।'

আধুনিক ক্রিকেটে ৩০০ বা তার বেশি রান করা এখন অনেকটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি শট নির্বাচনের গুরুত্বও মনে করিয়ে দিয়েছেন হান্নান, 'আক্রমণাত্মক খেলে ৩০০-এর বেশি রান করা এখন একটা প্রচলিত বিষয় হয়ে উঠছে। তারপরও স্কোরিং শট বেছে নিতে হবে খুব সতর্কভাবে। নিরাপদ স্কোরিং শট বেছে নিয়ে রান সচল রাখতে পারলে বড় সংগ্রহে অবদান রাখা সম্ভব।'