২৯ রানে ৮ উইকেট পড়ার পরিস্থিতি থেকেও ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন!

স্পোর্টস ডেস্ক

অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব আর রোমাঞ্চকর এক ফাইনালের সাক্ষী হলো গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল)। মাত্র ৮৫ রান তুলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প হয়তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রূপকথাকেও হার মানায়! ২৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে গুঁড়িয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স শেষ পর্যন্ত সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলেছে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটাই যেন গায়ানার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সান ফ্রান্সিসকো পিটার সিডলের আগুনে বোলিং আর অনিরুদ্ধ ইমানুয়েলের চমৎকার লেগস্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে গায়ানার টপ অর্ডার। মাত্র ২৫ রানেই ৫ উইকেট নেই তাদের! টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি, সর্বোচ্চ ৮ রান আসে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে।

বিপর্যয় এখানেই থামেনি। ইমানুয়েলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের (৪ ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেট) মুখে পড়ে একপর্যায়ে মাত্র ২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে অলআউটের প্রহর গুনছিল গায়ানা। সেখান থেকেই নবম উইকেটে অলরাউন্ডার ডোয়েন প্রিটোরিয়াস ও ম্যাথিউ ফোর্ড জুটি বেঁধে গড়েন ৪১ রানের মহামূল্যবান এক প্রতিরোধ। ১০ নম্বর ব্যাটার ফোর্ড ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৮ রান করলে গায়ানা ৮৫ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

বোর্ডে মাত্র ৮৫ রান—টি-টোয়েন্টির যুগে ম্যাচ জয়ের জন্য যা একেবারেই মামুলি। তবে গায়ানার বোলাররা দমে যাননি। ৮৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সান ফ্রান্সিসকো শুরুটা ভালো করলেও গায়ানার বোলাররা তাদের চেপে ধরেন। গায়ানার অলরাউন্ডার প্রিটোরিয়াস একাই তুলে নেন ৩টি উইকেট, যার জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে 'তার' হাতে।

একপর্যায়ে ওলিভার পিক (২৮ বলে ৩১) ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির জুটিতে ম্যাচ সান ফ্রান্সিসকের নিয়ন্ত্রণে মনে হচ্ছিল। কিন্তু দশম ওভার থেকে শুরু হয় মোহাম্মদ নবী ও ইমরান তাহিরের তাণ্ডব। নবীর (৩/১২) অফস্পিন আর তাহিরের (২/১৬) লেগস্পিনের মায়াজালে পড়ে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে ইউনিকর্নসের মিডল অর্ডার।

শেষ উইকেটে সান ফ্রান্সিসকোর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০ বলে ৭ রান। ঠিক সেই সময় ম্যাথিউ ফোর্ডের বলে মিড-অফে ঠেলে দিয়ে দ্রুত এক রান নিতে যান ক্যালুম স্টো। কিন্তু শিমরন হেটমায়ারের সরাসরি থ্রোতে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের স্টাম্প উড়ে গেলে ৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় সান ফ্রান্সিসকো।

৬ রানের স্মরণীয় এই জয়ের মাধ্যমে জিএসএল ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রান ডিফেন্ড করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়ল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালেও এটি দুটি দল মিলিয়ে সবচেয়ে কম রানের (১৬৪ রান) ম্যাচ হিসেবে রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। রোমাঞ্চের সব সীমা পেরিয়ে শেষ হাসিটা হাসল গায়ানাই!