আইপিএল ২০২৬

পাঞ্জাবের অদ্ভুত ক্যাচ মিসের মহড়ার ব্যাখ্যা করলেন অশ্বিন

স্পোর্টস ডেস্ক

যুজবেন্দ্র চেহেল নিজেকে চরম দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। তার বলে উঠছিল একের পর এক ক্যাচ আর তা হাতফসকে বেরিয়ে যাচ্ছিল অবিশ্বাস্যভাবে। হাতছাড়া হচ্ছিল স্টাম্পিংয়ের সহজ সুযোগ। পাঞ্জাব কিংসের ফিল্ডিংয়ে এমন বেহাল দশার জন্য মাঠের অস্বাভাবিক বাউন্স দায়ী করে বিশ্লেষণ করেছেন সাবেক ভারতীয় তারকা রবীচন্দ্রন অশ্বিন।

আইপিএলে বুধবার রাতে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের হার ৩৩ রানে। তবে এই হারের ক্ষত যতটা না বড়, তার চেয়েও বড় হয়ে বিঁধছে পাঞ্জাবের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়া। একে একে তিনটি সহজ ক্যাচ আর একটি স্টাম্পিংয়ের সুযোগ নষ্ট করেছে পাঞ্জাব। যুজবেন্দ্র চেহেলের বলে সুযোগ এলেও তা তালুবন্দি করতে পারেননি ফিল্ডাররা, যা দেখে রীতিমতো হতাশ দেখিয়েছে এই অভিজ্ঞ লেগ স্পিনারকে।

বারবার জীবন পেলেন কিষাণ ও ক্লাসেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টপ অর্ডার পাঞ্জাবের ফিল্ডিংয়ের ভুলে বারবার সুযোগ পায়। ইশান কিষাণ ব্যক্তিগত ৯ রানে লকি ফার্গুসনের বলে প্রথমবার জীবন পান কুপার কনোলির হাতে। এরপর ১৮ রানে চেহেলের বলে আবারও কিষাণের ক্যাচ ফেলেন ফার্গুসন নিজে। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৫৫ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। অন্যদিকে বিধ্বংসী হেনরিক ক্লাসেনকেও মাত্র ৯ রানে জীবন দান করেন শশাঙ্ক সিং। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৩ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন ক্লাসেন।

স্টাম্পিং মিসে বাড়ল ভোগান্তি ক্যাচ মিসের সঙ্গে যোগ হয়েছিল উইকেটকিপার প্রভসিমরান সিংয়ের ব্যর্থতা। চেহেলের বলে ইশান কিষাণকে স্টাম্পিং করার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। পাঞ্জাবের পক্ষে কুপার কনোলি ৫৯ বলে ১০৭ রানের লড়াকু শতক হাঁকালেও ফিল্ডিংয়ের সেই ভুলগুলোর কারণে ২৩৫ রানের পাহাড় ছোঁয়া সম্ভব হয়নি।

অশ্বিনের ব্যাখ্যা পাঞ্জাবের এমন নড়বড়ে ফিল্ডিং নিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেন, ‘আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, তবে পাঞ্জাব কিংসের ফিল্ডিংয়ে কিছু একটা সমস্যা ছিল। রিকি পন্টিং ম্যাচের সময় ঠিকই বলছিলেন যে, খারাপ ফিল্ডিং দলের মধ্যে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ে।’

কুপার কনোলির ক্যাচ মিস নিয়ে অশ্বিন বলেন, ‘কুপার ক্যাচটি ফেলার ঠিক আগে একটি বাউন্ডারি মিস করেছিলেন। সেখান থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে বাউন্ডারি লাইনের কাছে বল অস্বাভাবিকভাবে বাউন্স করছে। হায়দরাবাদ স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যাওয়ায় বল হঠাৎ লাফিয়ে উঠছে।’

উইকেটকিপিং নিয়ে তার বিশ্লেষণ হলো, ‘প্রভসিমরান সম্ভবত ওই ধরনের বাউন্সের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কিষাণ যখন ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন, বলটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাউন্স করেছিল। প্রভসিমরান খুব বেশি লম্বা না হওয়ায় তাঁর জন্য ওই বাউন্স দ্রুত আন্দাজ করা কঠিন ছিল।’