উইজডেনের বর্ষসেরা সম্মাননায় ভারতীয়দের জয়জয়কার
সোমবার ঘোষিত উইজডেন ক্রিকেট পুরস্কারে আধিপত্য দেখিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। পুরুষদের টেস্ট অধিনায়ক শুভমন গিল এবং নারী দলের তারকা দীপ্তি শর্মা এই তালিকায় সামনের সারিতে রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রকাশনা 'উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক' ১৮৬৪ সাল থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের সব বড় ঘটনার বার্ষিক রেকর্ড প্রকাশ করে আসছে। ক্রিকেট বিশ্বে একে এই খেলার 'বাইবেল' হিসেবে গণ্য করা হয়।
গত বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়া রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজে দারুণ পারফর্ম করা চারজন ভারতীয় ক্রিকেটারকে নিজেদের 'বর্ষসেরা পাঁচ' তালিকায় রেখেছে উইজডেন। তারা হলেন— ব্যাটার শুভমন গিল, স্পিন-অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা, উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঋষভ পন্ত এবং ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ সিরাজ।
এই তালিকার একমাত্র ইংলিশ খেলোয়াড় সাবেক ওপেনার হাসিব হামিদ, যার নেতৃত্বে নটিংহামশায়ার ২০২৫ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে কেবল একবারই এই সম্মাননা পেতে পারেন এবং এটি মূলত ইংল্যান্ডের গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।
এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে ২৬৯ ও ১৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার সুবাদে শুভমন গিল বর্ষসেরা টেস্ট পারফরম্যান্সের জন্য 'উইজডেন ট্রফি'ও জিতেছেন।
অন্যদিকে, ভারতের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য স্মৃতি মান্ধানার পর উইজডেনের বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার হয়েছেন দীপ্তি শর্মা। পুরুষদের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক। এছাড়া অভিষেক শর্মা বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে উইজডেন সম্পাদক লরেন্স বুথ ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট 'দ্য হান্ড্রেড'-এ ভারতীয় মালিকানাধীন আইপিএল দলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'এই প্রতিযোগিতার নতুন মালিকানা কাঠামো দ্য হান্ড্রেড-কে আইপিএলের একটি ছায়া টুর্নামেন্টে পরিণত করার ঝুঁকিতে ফেলেছে, যা ইংলিশ ক্রিকেটের চেয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বেশি সুবিধা দেবে।'
অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের ৪-১ ব্যবধানে ভরাডুবির সমালোচনা করে তিনি দলটিকে 'অসার ও বেপরোয়া' বলে মন্তব্য করেছেন। মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের অতি-শিথিল জীবনযাপন ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে ইংল্যান্ড তাদের প্রাপ্যটাই পেয়েছে বলে মনে করেন বুথ।