ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কড়া সমালোচনা করলেন গিল
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ে এবার সরাসরি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করলেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমন গিল। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি জানিয়েছেন, এই নিয়ম ক্রিকেটের চিরাচরিত সৌন্দর্য আর খেলোয়াড়দের দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গত বুধবার বিসিসিআই-এর সঙ্গে আইপিএল অধিনায়কদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শুভমন গিলসহ অধিকাংশ অধিনায়কই এই নিয়মটি নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানান। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিশ্চিত করেছে যে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই নিয়ম বহাল থাকবে, তবে অধিনায়করা এতে মোটেও খুশি নন।
সংবাদ সম্মেলনে শুভমন গিল বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম থাকা উচিত। ক্রিকেট সব সময় ১১ জনের খেলা। আইপিএলে আমরা যে ধরনের পিচ আর মাঠে খেলি, সেখানে একজন অতিরিক্ত ব্যাটার খেলানোর সুযোগ মানেই হলো খেলা থেকে ক্রিকেটীয় দক্ষতা কেড়ে নেওয়া।'
এই নিয়মের কারণে বর্তমানে দলগুলো ব্যাটিংয়ের সময় একজন বাড়তি ব্যাটার এবং বোলিংয়ের সময় একজন বাড়তি বোলার নামাতে পারছে। ফলে প্রকৃত অলরাউন্ডারদের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। শুভমন মনে করেন, এতে খেলাটি একঘেয়ে হয়ে পড়ছে।
তার মতে, 'নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাটার নিয়ে খেলাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। কয়েকটা উইকেট দ্রুত পড়ে গেলে কীভাবে স্কোরবোর্ড সচল রেখে দলকে ভালো স্কোরে নিয়ে যেতে হয়, সেখানেই একজন ক্রিকেটারের আসল পরীক্ষা। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার আসার ফলে সেই দক্ষতার আর প্রয়োজন পড়ছে না।'
আজকাল আইপিএলে নিয়মিত ২০০-এর ওপর রান উঠছে। তবে শুভমন গিলের কাছে চার-ছক্কার এই বন্যা খুব একটা রোমাঞ্চকর মনে হয় না। তিনি বলেন, 'ফ্ল্যাট উইকেটে ২২০ রান তাড়া করার চেয়ে কঠিন উইকেটে ১৬০ বা ১৮০ রানের লড়াই দেখা আমার কাছে অনেক বেশি আনন্দের। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনেই একজন খেলোয়াড়ের বুদ্ধিমত্তা আর কৌশল ফুটে ওঠে।'
বিসিসিআই আপাতত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও, গিলের মতো তারকা ক্রিকেটারদের এমন সরাসরি অবস্থান ভবিষ্যতে এই নিয়ম নিয়ে বোর্ডকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।