‘পারফরম্যান্সই হতে হবে প্রথম অগ্রাধিকার’
গত বছরের ডিসেম্বরেও নাঈম ইসলাম জাতীয় ক্রিকেট লিগে রংপুর বিভাগের হয়ে খেলছিলেন। চার মাস পর, তিনি এখন চার সদস্যের জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের অংশ। এই রূপান্তর তার খেলোয়াড়ি জীবনে অঘোষিত সমাপ্তি টেনেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম ধারাবাহিক পারফর্মার নাঈমের ঝুলিতে আছে প্রথম শ্রেনীতে ১১ হাজারের বেশি রান। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাঈম নতুন ভূমিকা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাধারণত খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্রিকেটাররা কোচিং বা অন্য কোনো ভূমিকার দিকে ঝুঁকে পড়েন। খেলোয়াড় থেকে নির্বাচক হওয়ার এই পরিবর্তনকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
নাঈম ইসলাম: এটা এক অপ্রত্যাশিত যাত্রা। তবে এই যাত্রা সফল না হলে আমি কোচিং লাইনে প্রবেশের চেষ্টা করতাম, কারণ আমার লেভেল ১ সম্পন্ন করা আছে। আমি আমার খেলার শেষের দিকে ছিলাম, হয়তো আর এক বছর বাকি ছিল। তখনই বোর্ডের সঙ্গে কাজ করার এই সুযোগটি আসে। আমার মনে হয়েছে, আমি যদি নির্বাচক হই, তবে বাংলাদেশের জন্য এমন কিছু অর্জন করার চেষ্টা করব যা খেলোয়াড় হিসেবে আমি পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি।
আপনি নিজেও এই ব্যবস্থার ‘শিকার’ হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যেখানে পারফর্ম করেও আপনি নির্বাচিত হননি। এই ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী?
নাঈম: পারফর্ম করার পরেও ডাক না পেয়ে বছরের পর বছর নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা ছিল খুবই কঠিন। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, কোনো খেলোয়াড় যদি পারফর্ম করে, তবে সে যেন সুযোগ পায়। একটি বিষয় আমার মনে হয়েছে আমাদের সময়ে অভাব ছিল, আর সেটি হলো যোগাযোগ। আমার মনে পড়ে না আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে বা কী উন্নতি করতে হবে, তা পরিষ্কার করার জন্য কখনো কোনো ফোন কল পেয়েছি। যদিও আমি কেবল ১৫ জনের একটি স্কোয়াড বেছে নিতে পারি এবং অন্যদের বাদ দিতেই হয়, তবে আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত। যদি কোনো খেলোয়াড় জিজ্ঞেস করে যে তারা কেন দলে নেই, তবে আমাদের তাদের বলা উচিত যে তাদের কী উন্নতি করতে হবে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে কী করলে তারা কামব্যাক করতে পারবে। এটি তাদের অনুপ্রাণিত রাখে।
ঘরোয়া দলের নির্বাচনে কি আপনি আরও স্বচ্ছতা আনবেন, যেখানে মাঝে মাঝে দলগুলো অগোছালোভাবে গঠন করা হয়?
নাঈম: আমি এনসিএলে অধিনায়কত্ব করেছি এবং নির্বাচকদের সঙ্গে বসেছি। এই ডিজিটাল যুগে সব তথ্য—রান, স্ট্রাইক রেট, বছরের পর বছর পারফরম্যান্স—সবই অনলাইনে পাওয়া যায়। আমি যদি এই কাজের জন্য পারিশ্রমিক পাই, তবে আমাকে আমার বুদ্ধি খাটাতে হবে। যদি ম্যানেজমেন্ট বা কোনো অধিনায়ক এমন কোনো খেলোয়াড়কে চায় যে গত তিন বছর ধরে পারফর্ম করেনি, তবে আমি তার যুক্তিসঙ্গত কারণ জানতে চাইব। তারা যদি তা দিতে না পারে, তবে আমি রাজি হব না। পারফরম্যান্সই হতে হবে প্রথম অগ্রাধিকার।
অতীতে সাদা বলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের টেস্টের জন্য নেওয়া হয়েছে। আপনি কি ফরম্যাট-ভিত্তিক ধারাবাহিকতার দিকে মনোযোগ দেবেন?
নাঈম: খেলোয়াড় হিসেবে আমরাও এ বিষয়ে আলোচনা করতাম। উদাহরণস্বরূপ, [এনামুল হক] বিজয় প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) হাজার রান করার পর [২০২২ সালে] ওয়েস্ট ইন্ডিজে একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাদা বলে পারফর্ম করা একজন খেলোয়াড়ের জন্য হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক লাল বলের ক্রিকেটে ঝাঁপিয়ে পড়া অত্যন্ত কঠিন। তাদের প্রস্তুতির সময় কমে যায় এবং টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা মানুষ এবং আমাদের ভুল হবে, তবে আমরা এমন সিদ্ধান্ত কমিয়ে আনার চেষ্টা করব যা খেলোয়াড়দের মনে প্রশ্ন জাগায় যে কেউ কীভাবে দলে সুযোগ পেল।
আপনি যেহেতু এখন একজন নির্বাচক এবং মাঠে আর ফিরবেন না, খেলোয়াড়ি জীবন নিয়ে আপনার কোনো আক্ষেপ আছে কি?
নাঈম: আমি ২০০১-০২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত খেলেছি। দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এবং আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ। আমি কী পাইনি তা নিয়ে ভাবতে চাই না; আমার যা আছে তা নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।