বোলারদেরই দায় দিচ্ছেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে

উইকেট ছিল ব্যাটিং স্বর্গ। তার উপর ব্যাটসম্যানরা ছিলেন ছন্দে। সবমিলিয়ে সাগরিকায় ঢাকা প্লাটুনের সামনে বিপিএলের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২২২ রানের বিশাল লক্ষ্য দ্বার করায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এমন ম্যাচে বোলারদের কিছু করার সুযোগ ছিল কমই। তবুও বোলারদেরই দায় দেখছেন ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আরেকটু নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলে স্কোরটা দুইশর নিচে থাকতে পারতো বলে মনে করেন অধিনায়ক।

সবমিলিয়ে ৪২৬ রানের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচই হয়েছে সাগরিকায়। স্বাগতিকদের ২২২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২০৫ রানে থেমেছে ঢাকা। এমন ম্যাচের পর মাশরাফি বললেন, 'আমার মনে হয় বেশিই হয়ে গেছে (লক্ষ্য)। এই উইকেটে দেখে আসছি ১৮০-৯০ তাড়া করা সম্ভব। ২২০ (আসলে ২২২) আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক কঠিন। আমরা বোলিং গ্রুপ হিসেবে ভালো করতে পারিনি। ২০০ পর্যন্ত থাকলেও হিসেব নিকেশ করে খেলা যায়।'

আর বোলারদের দায়ই বা দিবেন না কেন? কারণ জয়ের পথেই ছিলেন তারা। থিসারা পেরেরা টিকে থাকায় শেষ দিকে নাটকীয় করে দেখানোরও সুযোগ ছিল। তার কিছুই হয়নি প্রতিপক্ষ বোলার মেহেদী হাসান রানার জন্য। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে আটকে দিয়েছেন তাদের। কোটার চার ওভার বল করে রান দিয়েছেন মাত্র ২৩। উইকেটে নিয়েছেন ৩টি। আর শেষ ওভারে তো ছিলেন দুর্দান্ত। ম্যাচসেরা এ তরুণই। এমনটা যদি নিজেদের কোন বোলার করতে পারতো তাহলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারতো বলে মনে করেন অধিনায়ক।

'শেষ দুই-তিন ম্যাচে আমরা শেষে বোলিং করছি। আজকে একটা সুবিধা আমরা পেয়েছিলাম। সেটা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। তারা আমাদের আউট প্লে করেছে। তারা অল আউট ব্যাটিং করেছে। এতোটা আশা করিনি। আমরা ২৫-৩০ রান কমাতে পারতাম তাহলে খেলাটা অন্যরকম হতো। সেই সঙ্গে ওয়াইড ও নো বলের সংখ্যাও ছিল বেশ। এই ফরম্যাটে যেটা অনেক মূল্যবান।' - ম্যাচ নিয়ে মাশরাফির মূল্যায়ন এমনই।

তারপরও কিছুটা ইতিবাচক দিক দেখছেন অধিনায়ক। অন্তত নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে জেনেছেন মাশরাফি, 'আমি মনে করি এটা হতাশার, একই সঙ্গে একটা ভালো জিনিসও হয়েছে এই উইকেটে যে আমাদের ২০০-২১০ করারও যে সামর্থ্য আছে সেটা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। যে ভুল করেছি সেটা পিছনে রেখে সামনে এগুনোর জন্য ভালো জিনিসগুলো চিন্তা করে নামতে হবে।'