আজ লিপস্টিক দিবস: সাজগোজে আত্মবিশ্বাস নাকি প্রতিবাদের রঙ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে শেষবারের মতো আয়নায় তাকালেন। সব ঠিক আছে। পোশাক, ব্যাগ, মোবাইল—কিছুই বাদ যায়নি। হঠাৎ মনে হলো, ঠোঁটে তো লিপস্টিকই দেওয়া হয়নি! লিপস্টিক ছাড়া পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

বিভিন্ন জরিপ বলছে, প্রতি চারজন নারীর একজন মনে করেন লিপস্টিক ছাড়া বাইরে বের হওয়া মানে সাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া।

এই ছোট্ট প্রসাধনীটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রতিবছর ২৯ জুলাই পালিত হয় ন্যাশনাল লিপস্টিক ডে। বলে রাখা ভালো, এটা যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় দিবস। কিন্তু তাতে কী, চাইলেই যে কেউ উদযাপন করতেই পারেন।

কারণ লিপস্টিক কেবল ঠোঁট রাঙানোর প্রসাধনী নয়। অনেকের কাছে এটি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। কারও কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি উপায়। আবার কারো কারো মন খারাপের দিনে প্রিয় একটি লিপস্টিক মুহূর্তেই মন ভালো করে দিতে পারে।
তাই বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান হোক বা অফিস, অনেকের ব্যাগে লিপস্টিক থাকবেই।

লিপস্টিক কিনতে গেলে কেবল রঙ নয়, এর নামও অনেক সময় নজর কাড়ে।

কোনোটির নাম ইউনিকর্ন টিয়ার্স, কোনোটি পিংক পিজন, আবার কোনোটি ইনটু দ্য ম্যাডনেস! মনে হয় যেন প্রসাধনী নয়, গল্পের বইয়ের চরিত্র।

লিপস্টিক নিয়ে কিছু মজার তথ্য

লিপস্টিক নিয়ে আছে বেশ কিছু মজার তথ্য।

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি লিপস্টিকের দাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। কারণ, সেটিতে বসানো হয়েছিল আসল হীরা।

১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নারী ভোটাধিকারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক নারী লাল লিপস্টিক ব্যবহার করেছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও লিপস্টিকের উৎপাদন বন্ধ করতে চাননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। তার বিশ্বাস ছিল, এটি মানুষের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে।

ডে’জ অব দ্য ইয়ারের প্রতিবেদন বলছে, একজন নারী লিপস্টিকের পেছনে সারা জীবনে গড়ে দেড় হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন।

লিপস্টিকের ইতিহাস

লিপস্টিক এখন খুবই স্বাভাবিক একটি প্রসাধনী। কিন্তু একসময় এটি নিয়ে ছিল অনেক বিতর্ক।

ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন, নারীদের প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়। আবার বিখ্যাত অভিনেত্রী সারা বার্নহার্ট প্রকাশ্যে লিপস্টিক ব্যবহার করে সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।

তবে লিপস্টিকের ইতিহাস আরও অনেক পুরোনো। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মানুষ গাছের শিকড়, ফলের রস, মোম ও নানা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঠোঁট রাঙাত। তারপর নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে আজকের পর্যায়ে এসেছে।

কীভাবে উদযাপন করবেন

ন্যাশনাল লিপস্টিক ডে পালন করতে খুব বেশি আয়োজনের দরকার নেই। হয়তো অনেক দিন ধরে কিনব কিনব ভাবছেন, আজই কিনে ফেলতে পারেন নতুন একটি শেড। লাল, গোলাপি বা বাদামির বাইরে চাইলে নীল, বেগুনি কিংবা সবুজ রঙও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

আর যদি নতুন কিছু না-ও কেনেন, তাহলে প্রিয় লিপস্টিক নিয়ে একটি হাসিমুখের সেলফিই হতে পারে আজকের দিনের সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।