শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক: রিজভী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে নয়াদিল্লিতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনাতেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
আজ এক অনুষ্ঠানে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। এই দেশে গণতন্ত্র, অবাধ রাজনীতি এবং জনগণের কথা বলার সুযোগের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব হয়েছে, ঠিক সেই দিনেই দিল্লিতে এই প্রোগ্রামটি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়। অর্থাৎ মহা বিপ্লবের শহীদদের অপমান করার জন্যই শেখ হাসিনাকে এই কথা বলার সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা শুনি শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন। গতকাল তিনি অডিও বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের নীতিনির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই এই কাজটা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালানো একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুন ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে বন্দী প্রত্যর্পণ যে চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি হয়েছে, তার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া যায়। এ জন্য সরকার চিঠিও দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। অথচ পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন রয়েছে এবং দুই দেশই যেটাতে সই করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশকে বন্ধুরাষ্ট্র বলি। আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পাশাপাশি অবস্থান করব। সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় এটা করা হয়েছে; এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও মিউচুয়াল রেসপেক্ট)—এটি সেখানে সম্পূর্ণভাবে একটি হস্তক্ষেপ। আমাদের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা একধরনের হস্তক্ষেপ।’
গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যে গণবিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি তরুণ-কিশোর শিক্ষার্থীর জীবন চলে গেল, বাংলাদেশের রাজপথে তাদের রক্ত ঝরল, এক ভয়ংকর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হলেন।’
তিনি বলেন, ‘ভয়ংকর রক্তপিপাসু ও স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে রাজনীতি করার ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যারা নিজেদের পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে। যেদিন তার পতন হয়েছে, যেদিন ভয়ংকর রক্ত ঝরানো পথ মাড়িয়ে বিপ্লব সাধিত হয়েছে, ঠিক সেদিনই তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক।’

