থার্ড টার্মিনালে দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে হতে পারে: বিমানমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এলাকায় বিমানবাহিনীর গাড়ি দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

ওই দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন। এছাড়া গুরুতর আহত হন আরও চারজন।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি দুর্ঘটনা। চালকের ভুলের কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের (এভসেক) উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিমানবাহিনীর একটি গাড়ি তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কুইক রেসপন্স ফোর্সের দায়িত্ব পালন করছিল। সাত সদস্যকে বহনকারী গাড়িটি সেসময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, করপোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস ও এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত বাকি চারজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ

পরিদর্শনের সময় বিমানমন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থল আন্ডারপাসটিও ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, ওই এলাকায় সাধারণত যানবাহন চলাচলের কথা নয়।

মন্ত্রী জানান, তার ধারণা গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। গাড়িটির ডান দিকে মোড় নেওয়ার কথা থাকলেও সেটি তা করতে পারেনি। এরপর গাড়িটি নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে আন্ডারপাসে পড়ে যায়।

থার্ড টার্মিনাল চালু হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সামরিক মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা

আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে নিহত তিন বিমানবাহিনী সদস্যের জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক মর্যাদায় নিহতদের শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উপস্থিত ছিলেন। বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

নিহতদের পরিবারের সদস্য, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং অন্যান্য পদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সামরিক মর্যাদায় দাফনের জন্য মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীবৃন্দের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিমানবাহিনীর সদস্যরা।