নাটোরের ৪ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

নাটোরের চার উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলসহ সার্বিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সৈয়দ মোস্তাক হোসেনের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে নাটোরের লালপুর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলায় নিয়োগ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরের সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) নূর মোহাম্মদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই চার উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

কর্মসূচি আবার কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা বা ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আকস্মিক এ স্থগিতাদেশের কারণে পুরো নাটোর জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে।’

এর আগে গত বুধবার নিয়োগের ফল প্রকাশের পর লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

একপর্যায়ে দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করা হয়।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানা বলেন, ‘ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, যাদের অতীত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার রেকর্ড রয়েছে, তাদেরই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে বঞ্চিত প্রার্থী ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ও সমাজসেবা প্রতিমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এমন বিতর্কিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবা ও উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নাম বাছাই করা হয়েছে। যাদের আগে মাঠপর্যায়ে জরিপের কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, নিয়ম অনুযায়ী তারা কিছুটা অগ্রাধিকার পেয়েছেন।