শ্রীমঙ্গলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল (সিজন-২)’। সিলেট বিভাগের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফিনলে চা বাগানের ফুলছড়া মাঠে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নানা রকম সাংস্কৃতিক নৃত্য পরিবেশন করেন।
সিলেট অঞ্চলের ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও হস্তশিল্পের দেখা মিলছে এ উৎসবে। রয়েছে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পান প্রস্তুতি, মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত এবং শবর ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের নৃত্য।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন সকল ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এর ধারায় স্থানীয় অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হস্তশিল্পসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন।’
আফরোজা খানম বলেন, ‘আমি আশাবাদী হারমনি ফেস্টিভ্যাল একদিন আন্তর্জাতিকভাবে জায়গা করে নেবে। বিদেশ থেকেও যেন পর্যটকেরা এসে দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করব। আমরা ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান করছি, এই প্ল্যানে সিলেটও আছে।’
অনুষ্ঠানে 'গেস্ট অব অনার' হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
উৎসবে অংশ নেওয়া হরিনছড়া চা বাগানের বাসিন্দা পার্থ হাজং তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই উৎসব আমাদের সেই কণ্ঠস্বর দিচ্ছে, যা ইতিহাস বহুবার স্তব্ধ করে দিয়েছে। আমি যখন চা বাগানে আমার তাঁতে বসে কাজ করি আর মানুষ থেমে দেখে, প্রশ্ন করে, তখন এটা শুধু পর্যটন নয়, এটা স্বীকৃতি। আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কারুশিল্প বাঁচিয়ে রেখেছি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাফি আহমেদ বলেন, আমি শ্রীমঙ্গলে এসেছিলাম চা বাগান দেখতে, কিন্তু ফিরে যাচ্ছি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাংলাদেশ আবিষ্কার করে। শবর ও মুন্ডাদের নৃত্য দেখা, নতুন খাবারের স্বাদ নেওয়া, খাসি পান তৈরি চোখের সামনে দেখা—মনে হলো একসাথে ২৭টি জাতির ঐতিহ্য দেখছি।
শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, দশকের পর দশক ধরে এই সম্প্রদায়গুলোর পাশে বাস করেছি, কিন্তু এই উৎসবে না হাঁটলে তাদের ঐতিহ্যের এই গভীরতা নিজেও জানতাম না। স্টলে যে হস্তশিল্পগুলো দেখলাম, সেগুলো কিনে নিয়ে যেতে চাই। সরাসরি এই কারিগরদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
আগামী ২১ জুন তিন দিনব্যাপী এই উৎসব শেষ হবে।