সাভারে ২ সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আটক ৪

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

ঢাকার সাভারে ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন—বেসরকারি চ্যানেল দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তায়েফুর রহমান তুহিন ও এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

এছাড়া হামলায় দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম ও ড্রাইভার জয়নাল আহত হয়েছেন।

সাংবাদিক তুহিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকালে অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে আমরা মাদক চোরাকারবারি ও মাদকের বিস্তার নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় যাই। আমাদের সঙ্গে এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনও ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ফিরে আসছিলাম। এ সময় একজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। এরপর আমি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মাদক চোরাকারবারি শামীমসহ ৪০-৫০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

তুহিন বলেন, ‘হামলাকারীরা আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমার পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। সাদ্দামের চোখে ছুরিকাঘাত করা হয়। আমাদের সঙ্গে থাকা সব জিনিসপত্রও ছিনিয়ে নেয়। পরে আমাদের শামীমের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও নির্যাতন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে শামীম বলেন, “পুলিশ আসছে, তারা এলে মুচলেকা দিয়ে তারপর যেতে হবে।” কিছুক্ষণ পর প্রথমে পুলিশের একটি টিম এবং পরে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাদ্দাম হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সম্প্রতি মাদক চোরাকারবারি শামীমকে নিয়ে দুটি প্রতিবেদন করার পর তুহিন ভাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি মাদকের বিস্তার নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য আমার সহযোগিতা চান। সেই সূত্রেই আমি আজ দেশ টিভির টিমের সঙ্গে ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘হামলার একপর্যায়ে শামীম পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে গুলি করতে চেয়েছিল। সেসময়  আরেকজন আমাকে তিনবার ছুরিকাঘাত করে। একটি আঘাত আমার ডান চোখের কোণায় লাগে। শামীমকে নিয়ে সম্প্রতি করা রিপোর্টের কারণেই আমার ওপর ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়।’

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিয়া রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, আহত তুহিনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে সাদ্দামের চোখে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আহত দুজনের শরীরেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ওসি আরমান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মূল অভিযুক্ত শামীম পালিয়ে গেছেন। তাকে ও অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।