কাঁচা পাট রপ্তানির শর্ত প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে নগরের দৌলতপুর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

খুলনার দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকেরা সকালে রেলিগেট মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।

এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ বিজেএ ভবনের বাইরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। পরে দুপুরে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ শর্ত আরোপের পর থেকেই পাট খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। ৯ মাস ধরে অসংখ্য শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানি চালু ও বকেয়া বেতন পরিশোধ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

পরে নগরের দৌলতপুরে বিজেএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশের ৪০টি জুট প্রেস বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আগের তুলনায় ১০ ভাগের ১ ভাগে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা বিজেএর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বেসরকারি জুট মিলগুলোকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিতে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকাভুক্ত করেন। এর ফলে কাঁচা পাট রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

‘এতে রপ্তানিকারকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একইসঙ্গে এ খাত সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, দেশের জুট মিলগুলোর চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত ৮-১০ লাখ বেল কাঁচা পাট প্রতি বছর বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো।

‘তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর শর্ত আরোপের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৮৬ হাজার ৩৬৭ বেল পাট রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে ১৪৭ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা’, বলেন তিনি।