ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বলার মতো কোনো আলোচনা হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভোজ্যতেল নিয়ে আমরা নিয়মিত ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসি। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য। এটির দাম বাড়লে ক্রেতারা নাখোশ হন। এজন্য নিয়মিত বিরতিতে আমরা দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি ও আমদানি পর্যালোচনা করি। তবে এ বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোনো কিছু হয়নি।
আজ রোববার দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা অস্থিরতা যাতে সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা—যুদ্ধসহ নানা কারণে দেশের মানুষ শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে—যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
‘আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা যায়’, যোগ করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল সময়। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই খাতে যারা কাজ করেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বড় আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন। কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাজার থেকে সরে গেলে সেটি দেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ‘কমফোর্টেবল’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।