ভাঙ্গায় ২ দিন ধরে ৪ গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৪২

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থানার মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজনের এ সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আজ শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়ে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।

ভাঙ্গা
ভাঙ্গা থানার মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজনের এ সংঘর্ষ হয়। ছবি: সংগৃহীত

সংঘর্ষের সময় মনসুরাবাদ বাজারের কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিদর্শক আল আমিন মিয়া বলেন, 'মনসুরাবাদ ও পাশের তিন গ্রামের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।'

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, 'অন্য তিন গ্রামের তুলনায় মনসুরাবাদ বড় ও জনসংখ্যা বেশি। তবে মনসুরাবাদ বাজারটি অন্য তিন গ্রামের নিয়ন্ত্রণে। প্রথমে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, পরে বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।'

'আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই তিন গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। শুক্রবার বিকেলে খাপুরা গ্রামের একজনকে মনসুরাবাদ বাজারে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়,' বলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দুই গাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

মনসুরাবাদ গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী পলাশ সাহা বলেন, 'আজ দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে স্থানীয়দের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।'

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, আহত ভাঙ্গা থানার কনস্টেবল মো. মাসিউর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, ৫ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'

ভাঙ্গা থানার ডিউটি অফিসার পরেশ বাগচী বলেন, 'সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'

তিনি আরও জানান, 'বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মোট তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।'