১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে জরুরি টিকাদান, যারা পাবে টিকা
হাম মোকাবিলায় আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (নাইট্যাগ) সুপারিশে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু আগে টিকা পেয়ে থাকুক বা না থাকুক, পাঁচ বছরের কম বয়সী সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
প্রথম পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি হটস্পটে কার্যক্রম শুরু হলেও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২১ মের মধ্যে সারা দেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
সমন্বিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামীকাল একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকার নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
যেসব এলাকায় চলবে টিকাদান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী যে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এই টিকাদান চলবে, সেগুলো হলো—বরগুনা জেলার বরগুনা পৌরসভা ও সদর, পাবনার পাবনা পৌরসভা ও সদর, চাঁদপুরের চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী, গাজীপুরের গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার ঈশ্বরদী, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, পাবনার আটঘরিয়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, যশোরের যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোরের নাটোর পৌরসভা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, কক্সবাজারের রামু, চাঁদপুরের হাইমচর, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, মাদারীপুরের মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার বেড়া, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর।
এসব এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে এখন টিকা দেওয়া হবে না। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাদের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগের জটিলতা কমাতে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব রোগীকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকা সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থেকে এই কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।’

