স্বাধীনতা দিবসে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শুভেচ্ছা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।

বার্তায় শি বলেন, চীন ও বাংলাদেশ ‘ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার’।

ঢাকায় চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে।

তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নকে তিনি গুরুত্ব দেন এবং দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানো, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়া ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এদিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার বাংলাদেশি সমকক্ষ খালিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে যুক্তরাষ্ট্র মূল্যায়ন করে।’

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিনও এক বার্তায় স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের জনগণকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সূচনা করেছিল।

খোজিন আরও বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাই এই সংগ্রামের ভিত্তি ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘গ্লোবাল সাউথের’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল। পরবর্তীতে সোভিয়েত বিশেষজ্ঞরা দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করেন এবং চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণে অংশ নেন।

তিনি বলেন, ‘আজও বাংলাদেশিরা সেই সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে—এটি আমরা প্রশংসা করি।’

বর্তমানে রাশিয়া যৌথ প্রকল্প ও দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।